বিষয়বস্তুতে চলুন

কপ্ট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কপ্ট
ⲚⲓⲢⲉⲙ̀ⲛⲭⲏⲙⲓ ⲛ̀Ⲭⲣⲏⲥⲧⲓ̀ⲁⲛⲟⲥ
কপ্টীয় প্রবাস
উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যার অঞ্চল
 মিশর ১২ — ১৮ মিলিয়ন[ক]
প্রবাস:১–২ মিলিয়ন (অনুমানভেদে ভিন্ন)[৭]
 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৫০০,০০০ (২০১৮)[৮]
 সুদান৪০০,০০০–৫০০,০০০ (২০০৮)[৯]
 অস্ট্রেলিয়া৭৫,০০০ (২০০৩)[১০]
 লিবিয়া৬০,০০০ (২০১৬)[১১]
 কানাডা৫০,০০০ (২০১৭)[১২]
ফ্রান্স ফ্রান্স৪৫,০০০ (২০১৭)[১৩]
ইতালি ইতালি৩০,০০০ (২০১৪)[১৪]
যুক্তরাজ্য যুক্তরাজ্য২৫,০০০–৩০,০০০ (২০০৬)[১৫]
সংযুক্ত আরব আমিরাত সংযুক্ত আরব আমিরাত১০,০০০[১৬]
নেদারল্যান্ডস নেদারল্যান্ডস১০,০০০[১৭]
ভাষা
কপ্টীয় (উপাসনামূলক ও ঐতিহাসিক)
ধর্ম
কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চ
কপ্টীয় ক্যাথলিক চার্চ
কপ্টীয় প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জাগুলো

কপ্টরা (কিবতীয়: ⲚⲓⲢⲉⲙ̀ⲛⲭⲏⲙⲓ ⲛ̀Ⲭⲣⲏⲥⲧⲓ̀ⲁⲛⲟⲥ; আরবি: أقباط) হলো খ্রিস্টান জাতি-ধর্মীয় গোষ্ঠী, যাদের আদি নিবাস মিশর[১৮] এবং যারা প্রাচীনকাল থেকেই আধুনিক মিশরের ভূখণ্ডে বসবাস করে আসছে। বৃহত্তর মিশরীয় জনসংখ্যার মতো তারাও[২৪] প্রাচীন মিশরীয়দের বংশধর।[২৯] কপ্টরা প্রধানত কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চ অনুসরণ করে; একটি সংখ্যালঘু কপ্টীয় ক্যাথলিক গির্জার অনুসারী।[৩০][৩১] তারা মিশরের বৃহত্তম খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী এবং মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী,[৩৬] পাশাপাশি সুদান[৯] এবং লিবিয়াতেও[৩৭] রয়েছে। কপ্টরা মিশরের মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ৫ থেকে ১৫ শতাংশ।[৩৩][৩৮][৩৯][৪০][৪১][৪২][৪৩]

মূলত সকল মিশরীয়কে বোঝাতে ব্যবহৃত হলেও,[৪৪] ৬৩৯–৬৪৬ খ্রিস্টাব্দে মিশর বিজয়ের পর মিশরের ইসলামীকরণ ও আরবীকরণের প্রেক্ষাপটে কপ্ট শব্দটি দেশীয় খ্রিস্টানদের সমার্থক হয়ে ওঠে।[৪৫] ঐতিহাসিকভাবে কপ্টরা কপ্টীয় ভাষায় কথা বলত, যা ডেমোটিক মিশরীয় ভাষার সরাসরি উত্তরসূরি; ভাষাটি প্রাচীনত্বের শেষভাগে প্রচলিত ছিল।

৭ম শতকে আরব মুসলিমদের মিশর বিজয়ের পর ধর্মান্তরিত না হওয়া কপ্টীয় খ্রিস্টানদের প্রতি আচরণ তুলনামূলক সহনশীলতা থেকে শুরু করে প্রকাশ্য নিপীড়ন পর্যন্ত বিভিন্ন রূপ নিয়েছিল।[৪৬][৪৭][৪৮][৪৯] ঐতিহাসিকভাবে কপ্টরা বিভিন্ন সময়ে নিপীড়নের ঢেউয়ের শিকার হয়েছে, আবার তুলনামূলক সহনশীলতার সময়ও এসেছে; এই চক্র স্থানীয় শাসক এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হয়েছে।[৪৫] ঐতিহাসিক ও বর্তমান সময়ের সংঘাতের কারণে নিপীড়ন ও শহীদত্বের বিষয় কপ্টীয় পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।[৫০]

অধিকাংশ কপ্ট আলেকজান্দ্রিয়ার কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চের অনুসারী, যা একটি প্রাচ্যীয় অর্থোডক্স গির্জা।[৫১][৫২][৫৩] ছোট কপ্টীয় ক্যাথলিক গির্জা একটি পূর্বাঞ্চলীয় ক্যাথলিক গির্জা, যা রোমের পবিত্র আসনের সঙ্গে একতাবদ্ধ; অন্যরা মিশরের ইভানজেলিক্যাল চার্চের অন্তর্ভুক্ত। ইসলামী শাসনের অধীনে কপ্টরা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক পদে অধিষ্ঠিত ছিল।[৫৪] কপ্টরা আরব নবজাগরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা আল-নাহদা নামে পরিচিত।[৪৫] তারা মিশরের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন এবং প্যান-আরববাদ, শাসনব্যবস্থা, শিক্ষা সংস্কার ও গণতন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে অবদান রেখেছে।[৪৫] ঐতিহাসিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যেও তারা সমৃদ্ধি লাভ করেছে।[৫৫]

বৃহত্তর মিশরীয় সমাজ ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া সত্ত্বেও কপ্টরা স্বতন্ত্র ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং কিছু অনন্য সাংস্কৃতিক উপাদান সংরক্ষণ করে। কপ্টীয় সংগীতে প্রাচীনতর মিশরীয় সংগীতের ঐতিহ্যের কিছু প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়।[৫৬] কপ্টরা কপ্টীয় বর্ষপঞ্জির ব্যবহারও বজায় রেখেছে, যা প্রাচীন মিশরীয় বর্ষপঞ্জির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক কপ্ট আরব পরিচয়কে ইসলামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বলে মনে করে এবং এর সঙ্গে নিজেদের সম্পূর্ণভাবে একাত্ম মনে নাও করতে পারে,[৫৭] তবে অন্যান্য মিশরীয়দের সঙ্গে তাদের একটি জাতীয় পরিচয়ও রয়েছে।[৫৭][৫৮] কপ্ট ও মুসলিম মিশরীয়দের শারীরিকভাবে পৃথক করে চেনা যায় না বলে স্বীকৃত।[৫৯][৬০] কায়রো ও আলেকজান্দ্রিয়ার মতো মিশরের নগরগুলোতে কপ্টদের শিক্ষাগত অর্জন ও সম্পদের সূচক তুলনামূলকভাবে উচ্চ এবং সাদা-কলার পেশায় তাদের প্রতিনিধিত্বও শক্তিশালী। অন্যদিকে কপ্টরা কিছু স্বতন্ত্র সমস্যার মুখোমুখি হয়; তাদের অধিকাংশই উচ্চ মিশরে বসবাস করে—জাতীয় কেন্দ্রভুক্ত শহরগুলো থেকে দূরে—শ্রমজীবী পেশায় নিয়োজিত এবং জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী নিরাপত্তা সংস্থাগুলোতে তাদের প্রতিনিধিত্ব সীমিত।[৬১] মিশরের কপ্টীয় খ্রিস্টান ও মুসলিমদের মধ্যে অধিকাংশ জনমিতিক, আর্থসামাজিক ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সূচক একই রকম।[৬১]

শব্দের উৎপত্তি

[সম্পাদনা]

সপ্তদশ শতকে ইংরেজি ভাষায় কপ্ট শব্দটি নব্য লাতিন Coptus থেকে গৃহীত হয়, যা আরবি সমষ্টিবাচক Qubṭ/Qibṭ (قبط‎) থেকে উদ্ভূত; এর জাতিবাচক রূপ Qubṭī/Qibṭī (قبطى‎), বহুবচন Aqbāṭ (أقباط‎); আরেকটি রূপ হলো Qufṭī/Qifṭī (এখানে আরবি /f/ ঐতিহাসিক কপ্টীয় /p/ ধ্বনিকে প্রতিফলিত করে)। এগুলো কপ্টীয় শব্দ ⲁⲓⲅⲩⲡⲧⲓⲟⲛ (aiguption)-এর আরবীকৃত রূপ; বোহাইরিক উপভাষায় এর অর্থ "মিশরীয়" বা মিশরের সঙ্গে সম্পর্কিত, অথবা সাহিদিক উপভাষায় ⲕⲩⲡⲧⲁⲓⲟⲛ (kuptaion)। কপ্টীয় শব্দটি আবার মিশরের আদিবাসী জনগোষ্ঠী বোঝাতে ব্যবহৃত গ্রিক শব্দ Aigýptios (Αἰγύπτιος)-এর রূপান্তর।[৬২]

মিশরের গ্রিক নাম Aígyptos (প্রাচীন গ্রিক: Αἴγυπτος) নিজেই মিশরীয় ভাষা থেকে উদ্ভূত, তবে এর ব্যবহার আরও প্রাচীন; মাইসিনীয় গ্রিক ভাষায়ও এটি a3-ku-pi-ti-jo রূপে পাওয়া যায় (আক্ষরিক অর্থ "মিশরীয়"; এখানে একজন পুরুষের নাম হিসেবে ব্যবহৃত)। মাইসিনীয় এই রূপটি সম্ভবত মধ্য মিশরীয় ভাষার ḥwt kꜣ ptḥ থেকে এসেছে (পুনর্গঠিত উচ্চারণ: /ħawitˌkuʀpiˈtaħ/ → /ħajiʔˌkuʀpiˈtaħ/ → /ħəjˌkuʔpəˈtaħ/, মিশরতাত্ত্বিক উচ্চারণ Hut-ka-Ptah), যার আক্ষরিক অর্থ কা-এর ("দ্বৈত" আত্মা) পতাহের "ভূসম্পত্তি/প্রাসাদ" (এর সঙ্গে আক্কাদীয় āluḫi-ku-up-ta-aḫ-এর তুলনা করা যায়)। এটি মেমফিসে দেবতা পতাহের মন্দির-সমষ্টির নাম ছিল এবং লক্ষণারূপে মেমফিস নগর ও তার আশপাশের অঞ্চলকেও বোঝাত।

গ্রিক শব্দ Aigýptios রোমান মিশরে মিশরের স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বোঝাতে ব্যবহৃত হতো; এর মাধ্যমে গ্রিক, রোমান, ইহুদি প্রভৃতি অন্যান্য জনগোষ্ঠী থেকে তাদের পৃথক করা হতো। মিশর মুসলিম বিজয়ের (৬৩৯–৬৪৬) পর শব্দটি খ্রিস্টধর্ম অনুসরণকারী মিশরীয়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।[৬৩]

তাদের ঐতিহাসিক কপ্টীয় ভাষায়, যা মিশরীয় ভাষার চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করে, মিশরীয়দের থেকে পৃথক পরিচয় হিসেবে কপ্ট-এর সমতুল্য কোনো স্বতন্ত্র শব্দ নেই। এর পরিবর্তে সাহিদিক উপভাষায় rem en kēme ⲣⲙⲛⲕⲏⲙⲉ,[৬৪] ফাইয়ুমিক উপভাষায় lem en kēmi এবং বোহাইরিক উপভাষায় rem en khēmi ⲣⲉⲙ̀ⲛⲭⲏⲙⲓ শব্দগুলোর ব্যবহার পাওয়া যায়; এগুলোর প্রত্যেকটির আক্ষরিক অর্থ "মিশরের মানুষ" বা "মিশরীয়"; তুলনা করা যায় মিশরীয় rmṯ n kmt এবং ডেমোটিক rmt n kmỉ-এর সঙ্গে। এটি শুধু কপ্টীয় ভাষার বৈশিষ্ট্য নয়; বহু সম্প্রদায়ের আত্মপরিচয়সূচক নামের আক্ষরিক অর্থ "মানুষ"। যেমন, ইনুইট শব্দের অর্থ "মানুষ",[৬৫] আর রোমানি শব্দটির উৎপত্তি "মানুষ" বা "ব্যক্তি" বোঝানো শব্দ থেকে।[৬৬] ইতিহাসের বড় একটি সময়জুড়ে "মিশরের ব্যক্তি" বলতে কপ্ট নন এমন কাউকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার প্রয়োজনও খুব বেশি ছিল না, কারণ মিশরে বসবাসকারী অন্যান্য গোষ্ঠীগুলোরও কপ্টীয় ভাষায় স্বীকৃত জাতিনাম ছিল; যেমন "হেলেন", যা তাদের পৃথক করার জন্য যথেষ্ট ছিল।[৬৭] মধ্যযুগেও খ্রিস্টান কপ্ট ও তাদের খ্রিস্টধর্ম-পূর্ব পূর্বপুরুষদের মধ্যে সবসময় পৃথকীকরণ করা হতো না এবং কখনো কখনো উভয়ের জন্য একই জাতিনাম ব্যবহৃত হতো। ফলে "কপ্টীয়" হওয়ার সাংস্কৃতিক পরিচয় আজকের মতো এতটা দৃঢ়ভাবে খ্রিস্টধর্মের সঙ্গে আবদ্ধ ছিল না, যদিও এটি প্রায়ই মুসলিম হওয়ার বিপরীতে ব্যবহৃত হতো; সাধারণত মুসলিমরাই এভাবে পার্থক্য করত এবং কোনো পরিবার ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার প্রথম প্রজন্মের পর সেটিকে "কপ্ট" হিসেবে চিহ্নিত করা বন্ধ করত।[৬৮]

আরবি শব্দ Qibṭ (কপ্ট)-এর সঙ্গে উচ্চ মিশরের কোপ্তোস নগরের গ্রিক নাম Kóptos (টেমপ্লেট:Lang-grc-x-koine, বর্তমান কিফ্‌ত; কপ্টীয় Kebt ও Keft)-এরও সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে[কার মতে?]। এই সম্পর্ক "কপ্ট" নামটিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।[৬৯]

বিংশ শতকে ফারাওবাদ-এর প্রেক্ষাপটে কিছু মিশরীয় জাতীয়তাবাদী ও বুদ্ধিজীবী Qubṭ শব্দটি ঐতিহাসিক অর্থে সকল মিশরীয়—খ্রিস্টান ও মুসলিম উভয়কেই—বোঝাতে ব্যবহার করতে শুরু করেন।[৭০]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

টলেমীয় ও রোমান মিশর

[সম্পাদনা]
ফাইয়ুমের মমির প্রতিকৃতিতে তরবারির বেল্ট পরিহিত এক মিশরীয় ব্যক্তি, আল্টেস মিউজিয়াম

৩৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডার মহান-এর মিশর বিজয়ের পর দেশটি গ্রিক টলেমীয় রাজাদের শাসনের অধীনে আসে। এ সময় জনসংখ্যার অধিকাংশ মিশরীয় থাকলেও গ্রিক ও অগ্রিক উভয় ধরনের বিদেশি বসতি স্থাপনকারীরা মিশরে অভিবাসন করে। টলেমীয় মিশরে গ্রিক ও অগ্রিক উভয় অভিবাসীকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট অভিবাসী জনসংখ্যার ১০ শতাংশকে একটি অত্যন্ত আনুমানিক হিসাব হিসেবে ধরা যেতে পারে, যদিও এই পরিমাণকে অতিরিক্ত বলে প্রশ্ন করা হয়েছে।[৭১] স্থানীয় মিশরীয় জনগোষ্ঠী, যারা ভাষা ও সংস্কৃতিতে মিশরীয়ই রয়ে গিয়েছিল, মিশরীয় ভাষার সর্বশেষ পর্যায়ের রূপে কথা বলত, যা পরবর্তীকালে কপ্টীয় নামে পরিচিত হয়। মিশরীয় ভাষাকে প্রকাশ করার জন্য সুসংবদ্ধ কপ্টীয় লিপি গড়ে ওঠা নিঃসন্দেহে মিশরের স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও শাসক গ্রিকদের মধ্যে পার্থক্যকে সুদৃঢ় করতে সহায়তা করেছিল।[৭১]

এই অভিবাসী ও বিদেশি ফারাওয়ের উপস্থিতি সত্ত্বেও মিশর মূলত মিশরীয়দের দেশই ছিল এবং জনসংখ্যার মধ্যে তারাই ছিল সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী।[৭১] প্রকৃতপক্ষে, নীল উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্তের শহর, গ্রাম ও ছোট বসতিতে বসবাসকারী অধিকাংশ গ্রামীণ ও নগর স্থানীয় জনগণ টলেমীয়দের শাসনামলেও খুব সামান্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন অব্যাহত রাখে।[৭১] এমনকি টলেমীয় মিশরের রাজধানী ও গ্রিসের বাইরে বৃহত্তম গ্রিক নগর আলেকজান্দ্রিয়াতেও স্থানীয় মিশরীয়দের সংখ্যা গ্রিকদের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।[৭২] সংখ্যা ও সংস্কৃতি—উভয় দিক থেকেই মিশর মূলত মিশরীয়ই ছিল, যদিও বিদেশি সম্প্রদায়গুলোকে দেশের সামাজিক জীবনের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছিল।[৭৩] সময়ের সঙ্গে অল্পসংখ্যক বিদেশি মিশরীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়। ফলে ৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোম মিশরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সময় মিশরের অধিকাংশ গ্রিককে রোমান বিজয়ীরা মূলত মিশরীয় হিসেবেই শ্রেণিবদ্ধ করেছিল।[৭৩][৭৪]

ফাইয়ুমের মমির প্রতিকৃতিগুলো প্রভাবশালী মিশরীয় সংস্কৃতি ও ধর্মের সঙ্গে হেলেনীয় শিল্পের জটিল সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে এবং এগুলো সুস্পষ্ট মিশরীয় বৈশিষ্ট্যের সারকোফ্যাগাসে সংযুক্ত করা হতো।[৭৫] রোমান যুগের ফাইয়ুমের মমিগুলোর দাঁতের গঠন আগের মিশরীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, এগুলো গ্রিক বা অন্যান্য ইউরোপীয় জনগোষ্ঠীর তুলনায় প্রাচীন মিশরীয়দের সঙ্গে "অনেক বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ"।[৭৬][৭৭]

মিশরে খ্রিস্টান গির্জার প্রতিষ্ঠা

[সম্পাদনা]
সেন্ট মার্ক-এর কপ্টীয় প্রতিকৃতি

ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, খ্রিস্টধর্ম বর্তমান মিশরে মার্ক সুসমাচার প্রচারকের মাধ্যমে প্রবর্তিত হয়। খ্রিস্টের স্বর্গারোহণের কিছু পর এবং রোমান সম্রাট ক্লডিয়াসের শাসনামলে, আনুমানিক ৪২ খ্রিস্টাব্দে তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় পৌঁছেছিলেন।[৭৮] মিশরে মার্কের রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার ছিল একটি উল্লেখযোগ্য খ্রিস্টান সম্প্রদায়, তবে তার আগমনের অর্ধশতকের মধ্যেই খ্রিস্টধর্ম সমগ্র মিশরে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রমাণ পাওয়া যায় কপ্টীয় ভাষায় লিখিত যোহনের সুসমাচারের একটি খণ্ডে, যা উচ্চ মিশরে পাওয়া গেছে এবং দ্বিতীয় শতকের প্রথমার্ধের সময়কালে নির্ধারণ করা যায়; পাশাপাশি মধ্য মিশরের অক্সিরিঙ্কাসে পাওয়া নূতন নিয়মের রচনাগুলো আনুমানিক ২০০ খ্রিস্টাব্দের। দ্বিতীয় শতকে খ্রিস্টধর্ম গ্রামীণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে এবং ধর্মগ্রন্থ কপ্টীয় ভাষায় অনূদিত হয়, যে ভাষাটি তখন কেবল "মিশরীয়" নামে পরিচিত ছিল। তৃতীয় শতকের শুরুতে খ্রিস্টানরা মিশরের জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে ওঠে এবং আলেকজান্দ্রিয়ার গির্জা খ্রিস্টীয় বিশ্বের চারটি প্রেরিত-আসনের একটি হিসেবে স্বীকৃত হয়।[৭৯][৮০] অতএব, আলেকজান্দ্রিয়ার গির্জাই আফ্রিকার প্রাচীনতম খ্রিস্টান গির্জা।

খ্রিস্টধর্মে অবদান

[সম্পাদনা]

মিশরের কপ্টরা খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যে বিপুল অবদান রেখেছে। আলেকজান্দ্রিয়ার ধর্মশিক্ষা বিদ্যালয় ছিল বিশ্বে এ ধরনের প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান। আনুমানিক ১৯০ খ্রিস্টাব্দে পণ্ডিত পান্তেনাস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ধর্মীয় শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সেখানে এথেনাগোরাস, ক্লেমেন্ট, দিদিমাস ও অরিজেন-এর মতো পণ্ডিতরা শিক্ষাদান করতেন। অরিজেন (১৮৫–২৫১) ছিলেন ধর্মতত্ত্বের জনক,[৮১] এবং ব্যাখ্যামূলক ও তুলনামূলক বাইবেলীয় অধ্যয়নের ক্ষেত্রেও সক্রিয় ছিলেন। তবে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কেবল ধর্মতাত্ত্বিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; সেখানে বিজ্ঞান, গণিত ও মানবিক বিদ্যাও পড়ানো হতো। ব্যাখ্যার প্রশ্নোত্তর পদ্ধতির সূচনা এখানেই হয় এবং ব্রেইল উদ্ভাবনের ১৫ শতাব্দী আগে থেকেই দৃষ্টিহীন পণ্ডিতরা সেখানে কাঠ খোদাইয়ের কৌশল ব্যবহার করে পড়া ও লেখার কাজ করতেন।

খ্রিস্টধর্মের প্রাথমিক প্রচারকদের অন্যতম হিসেবে কপ্টরা খ্রিস্টীয় বিশ্বাসকে সুদূর সুইজারল্যান্ড, আবিসিনিয়া ও ভারত পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া এবং মেসোপটেমিয়া, পারস্য, রোম ও আয়ারল্যান্ডে এর প্রভাব বিস্তারের জন্য পরিচিতি লাভ করেছে।[৮২]

মিশরীয় কপ্টদের খ্রিস্টধর্মে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল সন্ন্যাসবাদের সৃষ্টি ও সংগঠিত রূপ প্রদান। বিশ্বব্যাপী খ্রিস্টীয় সন্ন্যাসবাদের উৎপত্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মিশরীয় উৎস থেকে হয়েছে।[৮৩][৮৪] মিশরের প্রাথমিক সন্ন্যাস আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন অ্যান্টনি দ্য গ্রেট (২৫১–৩৫৬), পল অব থিবস (আনু.  227 – আনু.  341), ম্যাকারিয়াস দ্য গ্রেট (আনু. 300 – ৩৯১), শেনুদা দ্য আর্কিমান্ড্রাইট (মৃ. 465) এবং পাখোমিয়াস দ্য সেনোবাইট (মৃ. 348)। পঞ্চম শতকের শেষ নাগাদ মিশরের মরুভূমিজুড়ে শত শত মঠ এবং হাজার হাজার কুঠরি ও গুহা ছড়িয়ে ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তীর্থযাত্রীরা মিশরের মরুভূমির পিতৃগণের আধ্যাত্মিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন অনুসরণ করতে সেখানে আসতেন। সেন্ট জেরোম, যিনি বাইবেলকে লাতিন ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন, আনুমানিক ৪০০ খ্রিস্টাব্দে জেরুজালেমের পথে মিশরে আসেন এবং তাঁর চিঠিতে অভিজ্ঞতার বিবরণ রেখে যান। সেন্ট বেনেডিক্ট ষষ্ঠ শতকে বেনেডিক্টাইন সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন, যা সেন্ট পাখোমিয়াসের আদর্শ অনুসরণ করলেও আরও কঠোর রূপে গড়ে উঠেছিল।

সর্বজনীন গির্জা পরিষদ

[সম্পাদনা]

প্রাথমিক খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্ব ও মতবাদ প্রতিষ্ঠায় আলেকজান্দ্রিয়ার আসনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান এই সত্যে প্রতিফলিত হয় যে খ্রিস্টধর্মের ইতিহাসের প্রথম তিনটি সর্বজনীন গির্জা পরিষদের সভাপতিত্ব করেছিলেন মিশরীয় পিতৃপুরুষেরা। নিকীয় পরিষদের (৩২৫ খ্রিস্টাব্দ) সভাপতিত্ব করেন আলেকজান্দ্রিয়ার পোপ আলেকজান্ডার প্রথম, তাঁর সঙ্গে ছিলেন কর্ডোবার সেন্ট হোসিয়াস। এ ছাড়া পরিষদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন আলেকজান্দ্রিয়ার ভবিষ্যৎ পিতৃপুরুষ আথানাসিয়াস, যিনি নিকীয় ধর্মবিশ্বাসের রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন; আজও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অধিকাংশ খ্রিস্টান গির্জায় এটি আবৃত্তি করা হয়। পরিষদের একটি সিদ্ধান্তে আলেকজান্দ্রিয়ার পিতৃপুরুষকে ইস্টারের সঠিক তারিখ নির্ণয় ও প্রতিবছর অন্যান্য খ্রিস্টান গির্জাকে তা জানানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। কনস্টান্টিনোপল পরিষদের (৩৮১ খ্রিস্টাব্দ) সভাপতিত্ব করেন আলেকজান্দ্রিয়ার পোপ তিমোথি প্রথম, আর এফেসাস পরিষদের (৪৩১ খ্রিস্টাব্দ) সভাপতিত্ব করেন আলেকজান্দ্রিয়ার পোপ সিরিল।

খাল্কেদনের পরিষদ

[সম্পাদনা]

চতুর্থ ও পঞ্চম শতাব্দীতে মিশরের স্থানীয় খ্রিস্টান গির্জা এবং সাম্রাজ্যের খ্রিস্টান গির্জার মতবাদের মধ্যে বিভেদের ভিত্তি গড়ে ওঠে। ৪৫১ খ্রিস্টাব্দে খাল্কেদনের পরিষদে আনুষ্ঠানিক বিভেদ ঘটে। পরিষদটি আলেকজান্দ্রিয়ার স্থানীয় মিশরীয় পিতৃপুরুষ ডায়োসকোরাস প্রথমকে নিন্দা, পদচ্যুত ও নির্বাসিত করে তাঁর স্থলে অন্য একজনকে নিয়োগ দেয়। মিশরীয় প্রতিনিধিদল পরিষদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে এবং এর ফলে স্থানীয় মিশরীয় জনগোষ্ঠীরও বিপুল অংশ তা প্রত্যাখ্যান করে। খাল্কেদনের পরিষদের ফলে সমগ্র মিশরের পাশাপাশি সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশের ওপর এখতিয়ার থাকা আলেকজান্দ্রিয়ার গির্জা এমন একটি গির্জায় বিভক্ত হয়, যা পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল, এবং এমন আরেকটি গির্জায়, যা তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী গির্জাটি খাল্কেদোনীয় গির্জা নামে পরিচিত হয় এবং বর্তমানে আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রিক অর্থোডক্স পিতৃপুরুষের আসন হিসেবে টিকে আছে। অন্যদিকে, খাল্কেদনের পরিষদ প্রত্যাখ্যানকারী গির্জাটি, যার অনুসারী ছিল স্থানীয় কপ্টদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ, পরবর্তীকালে কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চের পূর্বসূরি হয়ে ওঠে। পরবর্তী গির্জাটিকে ভুলভাবে মনোফিসাইট হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যদিও এটি নিজেই এই পরিভাষা প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজেকে মিয়াফিসাইট হিসেবে পরিচয় দেয়। অ-খাল্কেদোনীয় মিয়াফিসাইট মতবাদ স্থানীয় মিশরীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করা হয়।[৮৫]

বাইজেন্টীয় মিশর

[সম্পাদনা]

খালসেডনীয় পরিষদের পর মিশরের স্থানীয় কপ্টদের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র মিশরীয় বৈশিষ্ট্য বিকশিত হতে শুরু করে এবং খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ান-এর শাসনামলের পরবর্তী সময়ে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।[৮৬] এই প্রক্রিয়াই কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চে একটি স্বতন্ত্র মিশরীয় বৈশিষ্ট্যের বিকাশের ভিত্তি তৈরি করে। এর ফলে সাম্রাজ্যের সরকারি খালসেডনীয় খ্রিস্টতত্ত্ব থেকে এর দূরত্ব বাড়ে এবং এর স্বতন্ত্র গ্রিক বৈশিষ্ট্যও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।[৮৬] এই সময় থেকে মিশর আরবদের দখলে যাওয়া পর্যন্ত বাইজেন্টীয় সম্রাটেরা বারবার আলেকজান্দ্রিয়ার স্থানীয় মিশরীয় অ-খালসেডনীয় পিতৃপুরুষদের পদচ্যুত ও নির্বাসিত করেন এবং তাঁদের পরিবর্তে খালসেডনপন্থী পিতৃপুরুষ নিয়োগ করেন, যাঁদের অধিকাংশই মিশরীয় ছিলেন না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাম্রাজ্যিক কর্তৃপক্ষের কথিত নিপীড়নের কারণে মিশরীয়রা তাদের অবস্থান আরও কঠোর করে এবং খালসেডন পরিষদের পূর্ণ নিন্দা জানানো ছাড়া অন্য কোনো সমঝোতার প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করে।[৮৭] এই অবস্থানের সঙ্গে মিশরীয়দের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কপ্টীয় ভাষার প্রকাশ্য ব্যবহারের বিস্তারও একই সময়ে ঘটে।

মিশর আরবদের বিজয়

[সম্পাদনা]
কপ্টীয় কায়রোর ঝুলন্ত গির্জা

খ্রিস্টীয় ৬৪১ সালে বাইজেন্টীয় বাহিনীকে পরাজিত করার পর আরব মুসলিম বাহিনী মিশর দখল করে। ইতিহাসবিদ রজার এস. ব্যাগনালের মতে, স্বতন্ত্র মিশরীয় ও অ-খালসেডনীয় পরিচয় গড়ে তোলা কপ্টরা এমন একটি নতুন শাসনব্যবস্থার অধীন হয়, যেখানে আর্থিক শোষণ ও পরিকল্পিতভাবে সম্পদ আহরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো, বিশেষত কর আদায়ের মাধ্যমে।[৮৮]

আলফ্রেড জে. বাটলার উল্লেখ করেছেন যে আরবরা আলেকজান্দ্রিয়ায় প্রবেশের সময় শহরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল; এর মধ্যে কয়েকটি প্রাচীর ধ্বংস এবং বেশ কয়েকটি গির্জায় অগ্নিসংযোগও ছিল।[৮৯]

প্রারম্ভিক রাশিদুন খিলাফতের সময় মিশরের জনসংখ্যা, বিশেষত স্থানীয় কপ্টরা, নতুন ধরনের করের বোঝা, রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো নির্মাণে বাধ্যতামূলক শ্রম এবং কৃষি ও কারিগরি সম্পদ অধিগ্রহণের শিকার হয়। উর্বর নীল উপত্যকা এবং দেশটির দক্ষ শ্রমশক্তি, বিশেষত জাহাজ নির্মাণ ও সেচব্যবস্থায় দক্ষ কর্মীরা, নতুন প্রশাসনের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।[৮৮]

অষ্টম শতকের শুরু নাগাদ কপ্টীয় খ্রিস্টানদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত শ্রমে অংশ নিতে ক্রমশ বাধ্য করা হচ্ছিল। আলফ্রেড জে. বাটলারের মতে, মিশরের সম্পূর্ণ গ্রামগুলোকে প্রতিবছর নির্মাণকাজের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক শ্রমিক সরবরাহ করতে হতো; এসব কাজের মধ্যে ফুস্তাত, দামেস্ক ও জেরুজালেমে প্রাসাদ ও মসজিদ নির্মাণও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়া তাদের নৌ-অভিযানেও বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ করা হতো, যা বিশেষভাবে কঠোর বলে বিবেচিত হতো; কারণ বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে যারা এসব অভিযানে যেত, তাদের খুব কমজনই নিজ গ্রামে ফিরে আসত।[৯০]

রজার এস. ব্যাগনাল জোর দিয়ে বলেছেন যে আর্থিক শোষণ ও শ্রমিক সংগ্রহ মিশরের প্রাথমিক ইসলামি প্রশাসনিক ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় উপাদান ছিল। এসব নীতির ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ওপর অসম বোঝা চাপানো হয়, বিশেষত কপ্টদের ওপর; খিলাফতের সামরিক ও অবকাঠামোগত সম্প্রসারণে অর্থ জোগানোর উদ্দেশ্যে পরিচালিত সম্পদ আহরণমূলক ব্যবস্থার প্রধান ভার তাদেরই বহন করতে হয়।[৮৮]

শ্রমের পাশাপাশি স্থানীয় খ্রিস্টানদের ওপর জিজিয়া আরোপ করা হতো, যা ইসলামি আইন অনুযায়ী অমুসলিমদের ওপর একচেটিয়াভাবে ধার্য করা একটি বিশেষ কর। আজিজ সুরিয়াল আতিয়ার মতে, উমাইয়া আমলে এই কর সন্ন্যাসীদের ওপরও আরোপ করা হয়, যা তাদের করমুক্ত রাখার পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন ছিল এবং প্রায়ই কঠোর শাস্তির মাধ্যমে তা আদায় করা হতো।[৯১]

কর, আইনি বৈষম্য এবং জোরপূর্বক নিয়োগ বা নিপীড়নের হুমকির সম্মিলিত চাপে অনেক কপ্ট ধীরে ধীরে ইসলাম গ্রহণ করে। এই ধর্মান্তরিতদের মাওয়ালি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হতো। তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে আরব মুসলিমদের তুলনায় সামাজিক ও আইনি মর্যাদায় নিচু অবস্থানে ছিল।[৯২]

করভার গ্রামীণ এলাকার অনেক কপ্টকে তাদের করের দায় মেটাতে অক্ষম করে তোলে।[৯৩] নিপীড়নমূলক করব্যবস্থার ফলে স্থানীয় প্রতিরোধ এবং আরব দখলদারদের বিরুদ্ধে কপ্টদের বহু বিদ্রোহ ঘটে; এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল ৭২০ থেকে ৮৩২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যকার বাশমুরীয় বিদ্রোহ।[৯৪][৯৫] অতিরিক্ত করের আরেকটি প্রতিক্রিয়া ছিল, দরিদ্র খ্রিস্টান কপ্টরা হয় তাদের সম্প্রদায়ের ধনী সদস্যদের কাছ থেকে ঋণ নিত, নয়তো সম্পূর্ণভাবে নিজেদের জমিজমা ছেড়ে মিশরের অন্য অঞ্চলে পালিয়ে যেত।[৯৬]

মধ্যযুগ

[সম্পাদনা]
১৮৯৮ থেকে ১৯১৪ সালের মধ্যে জেরুজালেমের আমেরিকান কলোনিতে মিশরীয় কপ্টীয় সন্ন্যাসীরা[৯৭]

রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও প্রায় ৮০০ বছর পর্যন্ত মিশর প্রধানত খ্রিস্টান ছিল। ১৪শ শতকের পর কপ্টীয় খ্রিস্টানরা তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মর্যাদা হারায়[৯৮]। এর পেছনে ছিল ধারাবাহিক নিপীড়ন এবং মিশরে খ্রিস্টান গির্জাগুলোর ধ্বংস।[৪৭] মুসলিমদের মিশর বিজয়ের পর থেকে কপ্টীয় খ্রিস্টানরা বিভিন্ন মুসলিম শাসনের অধীনে নিপীড়নের শিকার হয়,[৪৬] যার মধ্যে ছিল উমাইয়া খিলাফত,[৯৯] আব্বাসীয় খিলাফত,[১০০][১০১][১০২] ফাতেমীয় খিলাফত,[১০৩][১০৪][১০৫] মামলুক সালতানাত,[১০৬][১০৭] এবং উসমানীয় সাম্রাজ্য। কপ্টীয় খ্রিস্টানদের নিপীড়নের মধ্যে ছিল গির্জা বন্ধ ও ধ্বংস করা, জোরপূর্বক ধর্মান্তরের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা,[৪৮][১০৮][১০৯] এবং ধর্মান্তর হতে অস্বীকারকারীদের ওপর ভারী জিজিয়া কর আরোপ।[১১০]

কপ্টদের ইসলাম গ্রহণের পেছনে আর্থিক স্বস্তির সম্ভাবনা ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ অমুসলিমদের ওপরই আরোপিত জিজিয়া কর থেকে তারা তখন মুক্তি পেত। ইসলামি শরিয়াহ আইন অনুযায়ী এই কর কেবল অমুসলিমদের কাছ থেকেই নেওয়া হতো।[১১১] আলেকজান্দ্রিয়ার পিতৃপুরুষদের ইতিহাস-এ কপ্টদের ওপর খিলাফত কর্তৃক আরোপিত আর্থিক নিপীড়নকে খ্রিস্টধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।[১১১] প্রাথমিক পর্যায়ের ধর্মান্তরিতদের আরব মুসলিম পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে যুক্ত হতে হতো এবং মাওয়ালি হিসেবে পরিচিত হতে হতো। তাদের প্রধান ভাষা হিসেবে আরবি গ্রহণ করতে হলেও তারা কপ্টীয় ভাষায় সাবলীল ছিল; ফলে মিশরীয় মুসলিমদের মধ্যে একটি ক্রমবর্ধমান দ্বিভাষিক গোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়।[১১২] তা সত্ত্বেও মধ্যযুগের অনেকটা সময়জুড়ে মিশর প্রধানত খ্রিস্টান দেশই ছিল। সে সময় উচ্চ মিশরের অনেক শহরে কোনো মুসলিম সম্প্রদায়ই ছিল না।[১১৩]

প্রারম্ভিক আধুনিক যুগ

[সম্পাদনা]
১৭৯৮ সালে পিরামিডে নেপোলিয়ন; চিত্রশিল্পী অঁতোয়ান-জাঁ গ্রো
প্রায় ১৮৫০ সালে বার্থা মুলার-এর আঁকা একজন কপ্টীয় খ্রিস্টান নারীর প্রতিকৃতি

মুসলিম শাসকদের অধীনে কপ্টীয় খ্রিস্টানদের প্রতি আচরণ মধ্যযুগজুড়ে কঠিন ছিল এবং তা প্রারম্ভিক আধুনিক যুগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ১৭৯৮ সালে নেপোলিয়ন নেপোলিয়নের যুদ্ধের অংশ হিসেবে মিশর দখল করলে কপ্ট সম্প্রদায়ের আত্মরক্ষার প্রয়োজনে মামলুক, উসমানীয় এবং মিশরীয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য কপ্টীয় লিজিয়ন নামে একটি সামরিক ইউনিট গঠন করা হয়। কপ্টীয় লিজিয়নের নেতৃত্বে ছিলেন একজন কপ্টীয় জেনারেল, জেনারেল ইয়াকুব, যিনি লিজিয়নের জন্য কায়রো ও উচ্চ মিশর থেকে তরুণ কপ্টদের নিয়োগ করেছিলেন। ফরাসি সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষকেরা তাদের প্রশিক্ষণ দেন। গ্রিক লিজিয়নের সঙ্গে কপ্টীয় লিজিয়ন মিলে বাতাইয়োঁ দে শাস্যুর দ'ওরিয়ঁ গঠন করে।[১১৪] ১৮০১ সালে মিশরে নেপোলিয়নের বিজয়যাত্রা পরাজিত হওয়ার পর কপ্টীয় লিজিয়নের সদস্যরা ফরাসি সেনাবাহিনীর সঙ্গে ফ্রান্সে ফিরে যায়।[১১৪]

আধুনিক যুগে উসমানীয় সাম্রাজ্য থেকে মিশরের স্বাধীনতার প্রথম প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে জেনারেল ইয়াকুবকে বিবেচনা করা হয়।[১১৫][১১৬][১১৭] তিনি মিশরীয় জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে দেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুক্তি দেন। তিনি মিশরের অতীত গৌরব তুলে ধরেন, একটি মহান সভ্যতা নির্মাণকারী জনগণের জন্য দেশটির বর্তমান অবস্থাকে অনুপযুক্ত বলে আক্ষেপ করেন এবং মানবজাতির ওপর মিশরের প্রাচীন সংস্কৃতির ঋণের কথা জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।[১১৬]

উসমানীয় আমলে কপ্টদের অন্যান্য প্রাচ্যীয় অর্থোডক্স জনগোষ্ঠীর—বিশেষত সিরীয় অর্থোডক্স এবং প্রাচ্যের চার্চের অনুসারীদের—সঙ্গে আর্মেনীয় মিল্লেত-এর অধীনে শ্রেণিবদ্ধ করা হতো।[১১৮] মুসলিম শাসনের অধীনে খ্রিস্টানদের বিশেষ কর দিতে হতো, রাজনৈতিক ক্ষমতায় তাদের প্রবেশাধিকার ছিল সীমিত এবং তারা সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পেত।

১৯ শতকের গোড়ার দিকে মুহাম্মদ আলীর শাসনামলে কপ্টদের অবস্থার নাটকীয় উন্নতি ঘটে। তিনি জিজিয়া বিলুপ্ত করেন এবং কপ্টদের সেনাবাহিনীতে যোগদানের অনুমতি দেন। পোপ চতুর্থ কিরিল, যিনি ১৮৫৪ থেকে ১৮৬১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন, গির্জার সংস্কার করেন এবং মিশরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে কপ্টদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে উৎসাহ দেন। ১৮৬৩ থেকে ১৮৭৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা খেদিভ ইসমাইল পাশা কপ্টদের আরও বেশি সুযোগ দেন। তিনি মিশরের আদালতে তাদের বিচারক হিসেবে নিয়োগ করেন এবং তাদের রাজনৈতিক অধিকার ও সরকারে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেন। ব্যবসা-বাণিজ্যেও তারা সমৃদ্ধি লাভ করে।[৫৫]

আধুনিক মিশরে কপ্টরা

[সম্পাদনা]
১৯১৯ সালের বিপ্লবের সময় মিশরীয় জাতীয়তাবাদী বিপ্লবীদের পতাকা। এতে মুসলিম মিশরীয়দের প্রতিনিধিত্বকারী অর্ধচন্দ্র এবং খ্রিস্টান মিশরীয়দের প্রতিনিধিত্বকারী ক্রুশ—উভয়ই রয়েছে

উসমানীয় সাম্রাজ্য এবং যুক্তরাজ্য উভয়ের কাছ থেকে স্বাধীনতার জন্য মিশরের সংগ্রাম ধর্মনিরপেক্ষ মিশরীয় জাতীয়তাবাদ দ্বারা চিহ্নিত ছিল। মিশরের স্বাধীনতার এই সংগ্রামে কপ্টরা সামনের সারিতে ছিল। ১৯১৯ সালে মিশরীয় জাতীয়তাবাদী নেতা সাদ জাগলুল যখন ভার্সাইয়ে আরব প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তখন তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম পরস্পর সম্পর্কিত নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে মিশরের সমস্যা একটি মিশরীয় সমস্যা, আরব সমস্যা নয়।[১১৯]

১৯১৯ সালে ব্রিটিশরা জাগলুলকে মাল্টায় নির্বাসিত করলে মিশরে ব্রিটিশ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে তাঁর সঙ্গে যোগ দেওয়া কয়েকজন বিশিষ্ট কপ্টীয় ব্যক্তিকেও নির্বাসিত করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন উইসা ওয়াসেফ ও জর্জ খায়াত, যারা দুজনই মিশরীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। জাগলুল প্রথম নির্বাসন থেকে ফিরে এলে উইসা ওয়াসেফ, সিনুত হান্না, ওয়াসেফ গালি, মরকোস হান্না এবং মাকরাম এবেইদ নামের কপ্টরা তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়ে মিশরে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিরোধিতা গড়ে তোলেন।[১২০] পরে ১৯২১ সালে জাগলুলকে সেশেলসে নির্বাসিত করা হলে মাকরাম এবেইদও তাঁর সঙ্গে নির্বাসিত হন।[১২০]

এই নির্বাসিতরা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর মিশরীয় জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়ার অংশ ছিলেন এবং ধর্মীয় বিভাজন অতিক্রম করে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তারা মিশরজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভে গতি সঞ্চার করেন, যা পরবর্তীতে বিখ্যাত ১৯১৯ সালের বিপ্লবে রূপ নেয়। এই বিপ্লব সব ধর্মের মিশরীয়দের মধ্যে স্বাধীনতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষাকে আরও স্পষ্ট করে। এই ঐক্য ২০ শতকের গোড়ার দিকের মিশরীয় জাতীয়তাবাদের একটি বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়। ১৯১৯ সালের বিপ্লবের অন্যতম পরিচিত কপ্টীয় ব্যক্তিত্ব ফাখরি 'আবদ আল-নূর তাঁর স্মৃতিকথায় বিপ্লবের সূচনায় সাদ জাগলুলের দেওয়া বক্তব্যের ইতিবাচক প্রভাবের কথা স্মরণ করেছেন। ওই বক্তব্যে তিনি মিশরীয় কপ্ট ও মুসলিমদের "সমান দায়িত্ব ও সমান অধিকার"-এর কথা ঘোষণা করেছিলেন।[১২১] প্রকৃতপক্ষে, ১৯১৯ সালের বিপ্লবের বক্তা ছিলেন একজন কপ্টীয় যাজক, ফাদার মরকোস সারজিয়াস, যাকে এর আগে ১৯১৫ সালে ব্রিটিশরা নির্বাসিত করেছিল।[১২২]

১৯২২ সালের এপ্রিলে ব্রিটিশরা সাতজন মিশরীয় জাতীয়তাবাদীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেয়; তাঁদের চারজন ছিলেন কপ্ট—উইসা ওয়াসেফ, ওয়াসেফ গালি, জর্জ খায়াত এবং মরকোস হান্না।[১২০] তাঁদের সংগ্রামের ফলে ১৯২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মিশর যুক্তরাজ্য এবং উসমানীয় সাম্রাজ্য উভয়ের কাছ থেকেই স্বাধীনতা লাভ করে। মিশরীয় জাতীয়তাবাদের কাঠামোর মধ্যে ব্রিটিশ ও উসমানীয়দের বিরুদ্ধে কপ্টদের এই সংগ্রাম তাদের এবং মিশরীয় মুসলিমদের একইভাবে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে নিজেদের প্রথমত ও প্রধানত মিশরীয় হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি স্পষ্ট করে।

রাষ্ট্রপতি গামাল আবদেল নাসের কপ্টীয় বিশপদের একটি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাচ্ছেন (১৯৬৫)

এই সময়ে কপ্টদের উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক অর্জনের মধ্যে ছিল ১৯১০ সালে কপ্টীয় জাদুঘর এবং ১৯৫৪ সালে উচ্চতর কপ্টীয় অধ্যয়ন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা। এই সময়ের বিশিষ্ট কপ্টীয় চিন্তাবিদদের মধ্যে ছিলেন সালামা মুসা, লুইস আওয়াদ এবং ওয়াফদ পার্টির মহাসচিব মাকরাম এবেইদ।

১৯৫২ সালে গামাল আবদেল নাসের একদল সেনা কর্মকর্তার নেতৃত্ব দিয়ে রাজা ফারুকের বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থান পরিচালনা করেন। এর ফলে রাজতন্ত্রের পতন ঘটে এবং মিশরকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়। নাসের ছিলেন একজন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী; তাঁর আদর্শ প্যান-আরব জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। নাসেরের জাতীয়করণ কর্মসূচির ফলে কপ্টরা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়[১২৩] এবং তাঁর প্যান-আরব নীতি কপ্টদের আরব-পূর্ব মিশরীয় পরিচয়ের সঙ্গে তাদের দৃঢ় সংযুক্তি ও পরিচয়বোধকে দুর্বল করে দেয়।[১২৩]

জনমিতি

[সম্পাদনা]

মিশরের কপ্টীয় জনসংখ্যার সঠিক হিসাব করা কঠিন, কারণ মিশরীয় কর্তৃপক্ষ গবেষকদের জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ধর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন করতে নিষেধ করে।[১২৪] নির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য জনমিতিক তথ্যের অভাবে সব হিসাবই অনিশ্চিত।[৩][১২৫] ২০১৯ সাল পর্যন্ত সাধারণভাবে ধারণা করা হতো যে কপ্টরা মিশরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ।[১২৫] তাদের আনুমানিক সংখ্যা ছিল ৯৫ লাখ, যা ২০১৭ সালে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এ উদ্ধৃত একটি হিসাব,[১] অথবা ১ কোটি, যা ২০১৯ সালে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এ উদ্ধৃত একটি হিসাব।[২] আরও কম বা বেশি সংখ্যার হিসাবও পাওয়া যায়, যা "জনসংখ্যার ৬ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যে কোথাও" বলে উল্লেখ করা হয়েছে।[৩] মিশরীয় সরকার যেখানে তুলনামূলক কম সংখ্যা এবং কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চ তুলনামূলক বেশি সংখ্যা অনুমান করে।[১২৫] ২০২৩ সালে আলেকজান্দ্রিয়ার পোপ দ্বিতীয় তাওয়াদ্রোস বলেন, মিশরের মোট ১০ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে কপ্টদের সংখ্যা আনুমানিক ১ কোটি ৫০ লাখ, অর্থাৎ মিশরের জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ।[৩৮][৩৩] তিনি আরও বলেন, প্রায় ১০০টি বিভিন্ন দেশে প্রবাসী হিসেবে আরও ২০ লাখ কপ্ট বসবাস করেন।[৩৮][৩৩] তিনি ব্যাখ্যা করেন যে এই তথ্য শিশুদের বাপ্তিস্ম, বিবাহ ও মৃত্যুর নথি থেকে পাওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও কপ্টরা মিশরীয় সমাজে ভালোভাবেই একীভূত। কপ্টদের সর্বোচ্চ ঘনত্ব উচ্চ মিশরে, বিশেষত আসিউত, মিনিয়া, সোহাগ ও কেনার আশপাশে; এ ছাড়া কায়রো ও আলেকজান্দ্রিয়ার বড় শহরগুলোর কিছু জেলাতেও তাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।[১২৬]

প্রবাসী জনগোষ্ঠী

[সম্পাদনা]

মিশরের বাইরে আনুমানিক ১০ থেকে ২০ লাখ কপ্ট বসবাস করেন; তাদের কপ্টীয় প্রবাসী জনগোষ্ঠী বলা হয়।[৩৮][৩৩] তারা প্রধানত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (৫ লাখ),[৮] সুদানে (৪ থেকে ৫ লাখ),[৯] অস্ট্রেলিয়ায় (৭৫,০০০),[১০] লিবিয়ায় (৬০,০০০),[১১] কানাডায় (৫০,০০০),[১২] ফ্রান্সে (৪৫,০০০),[১৩] ইতালিতে (৩০,০০০),[১৪] যুক্তরাজ্যে (২৫,০০০–৩০,০০০),[১৫] সংযুক্ত আরব আমিরাতে (১০,০০০),[১৬] এবং নেদারল্যান্ডসে (১০,০০০) বসবাস করেন।[১৭]

সুদান

[সম্পাদনা]
খার্তুমে পবিত্র কুমারী মেরির কপ্টীয় অর্থোডক্স ক্যাথেড্রাল

সুদানে একটি স্থানীয় কপ্টীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রয়েছে, যদিও দেশটির অনেক কপ্ট সাম্প্রতিক সময়ে মিশর থেকে আসা অভিবাসীদের বংশধর।[৯] সুদানের কপ্টরা প্রধানত মিশরের সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলের শহরগুলোতে বসবাস করে।[৯] সুদানের অনেক কপ্ট উচ্চশিক্ষিত।[৯] তারা মাঝে মাঝে জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণের শিকার হয়েছে, যার ফলে তাদের অনেকে দেশত্যাগ করেছে এবং তাদের সংখ্যা কমেছে।[৯]

সুদানে কপ্টদের আধুনিক অভিবাসন উনিশ শতকের গোড়ার দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় এবং সাধারণত তারা সেখানে সহনশীল অভ্যর্থনা পায়। তবে উনিশ শতকের শেষভাগে মাহদিস্ট শাসনের অধীনে এক দশক ধরে চলা নিপীড়নের ফলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।[৯] এই নিপীড়নের ফলে অনেককে তাদের ধর্মবিশ্বাস ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ এবং স্থানীয় সুদানি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আন্তঃবিবাহে বাধ্য করা হয়। ১৮৯৮ সালের অ্যাংলো-মিশরীয় আক্রমণ কপ্টদের বৃহত্তর ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা লাভের সুযোগ দেয়। তবে ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি ইসলামবাদের পুনরুত্থান এবং পরবর্তীতে কট্টরপন্থীদের ইসলামি সংবিধান প্রণয়নের দাবির কারণে কপ্টরা ধর্মভিত্তিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিরোধিতায় যোগ দেয়।[৯]

১৯৮৩ সালে ইসলামি শরিয়া আইন প্রবর্তনের ফলে কপ্টসহ অন্যান্য অমুসলিমদের ওপর নিপীড়নমূলক আচরণের একটি নতুন পর্যায় শুরু হয়।[৯] ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে কপ্টীয় নেতারা একজন ধর্মনিরপেক্ষ প্রার্থীকে সমর্থন করেন। তবে ন্যাশনাল ইসলামিক ফ্রন্ট সামরিক বাহিনীর সহায়তায় নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করলে কপ্টদের প্রতি বৈষম্য আবার ব্যাপক আকার ধারণ করে। শত শত কপ্টকে সরকারি চাকরি ও বিচার বিভাগ থেকে বরখাস্ত করা হয়।[৯] ১৯৯১ সালে বৈদেশিক মুদ্রা অবৈধভাবে রাখার এবং ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতির অভিযোগে সরকার একজন কপ্টীয় বৈমানিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর সুদানের বহু কপ্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়।[১২৭] এরপর সুদানি নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে কপ্টদের অধিকার সীমিত করা হয় এবং জন্মসূত্রে বা স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে সুদানি নাগরিকত্ব পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও নানা সমস্যা দেখা দেয়। খ্রিস্টান বিদ্যালয়গুলো বাজেয়াপ্ত করা এবং ভাষা ও ইতিহাস শিক্ষায় আরবি-ইসলামি বিষয়বস্তুর ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি খ্রিস্টান শিশুদের হয়রানি এবং হিজাব পরার আইন চালু করা হয়। মুসলিম শুক্রবারের নামাজের ব্যাপক প্রচারের বিপরীতে রেডিওতে খ্রিস্টানদের রবিবারের উপাসনা সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়।

২০১৮ সালের সুদানি বিপ্লবের পর ২০১৯ সালে একজন কপ্ট (রাজা নিকোলা ইসা আবদুল-মাসেহ) ১১ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন সার্বভৌম পরিষদে নিয়োগ পান। সুদানকে গণতন্ত্রে রূপান্তরের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পরিষদ গঠিত হয়েছিল।[১২৮] তবে ২০১৯ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে পরিষদটি বিলুপ্ত হয় এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়া থেমে যায়। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের সময় কপ্টসহ খ্রিস্টানরা তীব্রতর নিপীড়নের শিকার হয়।[১২৯] তাদের অনেকে শরণার্থী হয়ে পড়ে অথবা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়।[১২৯]

সংখ্যালঘু অধিকার গোষ্ঠীর ২০১৮ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সুদানের কপ্টরা এর আগে তাদের সংখ্যা ৪ থেকে ৫ লাখ বলে অনুমান করেছিল,[১৩০] যা সুদানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ।[৯] তবে দেশত্যাগ এবং ইসলাম গ্রহণের কারণে, যার মধ্যে জোরপূর্বক ধর্মান্তরও অন্তর্ভুক্ত, তাদের সংখ্যা আরও কমে গেছে।[১৩১]

লিবিয়া

[সম্পাদনা]
কপ্টীয় আইকন: লিবিয়ার ২১ জন কপ্টীয় শহীদ

লিবিয়ার কপ্টীয় জনসংখ্যার সঠিক সংখ্যা অনিশ্চিত। ২০১৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি হিসাবে দেশটির মোট অমুসলিম লিবীয় জনসংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। তবে লিবিয়ার কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চের হিসাবে, নিয়মিত গির্জার উপাসনায় অংশ নেন না এমন ব্যক্তিদেরসহ শুধু তাদের সদস্যসংখ্যাই ছিল ৩ লাখ।[১৩২] ২০১১ সালে দেশটিতে তিনটি কপ্টীয় গির্জা ছিল। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চলা লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় অন্তত ২ লাখ খ্রিস্টান লিবিয়া থেকে পালিয়ে যায়। সেই সময় আনসার আল-শারিয়া, নুসরা ফ্রন্ট এবং ইসলামিক স্টেটের মতো ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী কপ্টদের ওপর সহিংস নিপীড়ন চালায়।[১৩২]

২০১৫ সালে লিবিয়ায় ২০ জন কপ্টকে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করে ইসলামিক স্টেট। তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ভিডিও আল-হায়াত প্রচার করলে তা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে। পরবর্তীতে কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চ এবং ক্যাথলিক চার্চ উভয়ই তাদের শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।[১৩৩]

উত্তর আমেরিকা

[সম্পাদনা]
বেলেয়ার, টেক্সাসের সেন্ট মার্ক কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চ (গ্রেটার হিউস্টন)

মিশরের বাইরে কপ্টীয় প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় অংশ উত্তর আমেরিকায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় বসবাস করে।

উত্তর আমেরিকায় প্রথম কপ্টীয় অর্থোডক্স গির্জা, সেন্ট মার্ক কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চ, ১৯৬৪ সালে টরন্টোতে নির্মিত হয়।[১৩৪] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কপ্টীয় অর্থোডক্স গির্জা, নিউ জার্সির সেন্ট মার্ক কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চ, এর কিছুদিন পর জার্সি সিটি, নিউ জার্সিতে নির্মিত হয়।[১৩৪]

২০১৮ সাল পর্যন্ত আমেরিকান কপ্টদের সংখ্যা ৫ লাখের বেশি বলে অনুমান করা হয়েছিল এবং সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২৫০টিরও বেশি কপ্টীয় গির্জা ছিল।[৮] ২০১০-এর দশকের গোড়ার দিকে কানাডীয় কপ্টীয় সমিতি কানাডীয় কপ্টদের সংখ্যা ৩৫ হাজার বলে অনুমান করে।[১৩৫] ২০১৭ সালের মধ্যে কানাডীয় কপ্টদের সংখ্যা আনুমানিক ৫০ হাজারে পৌঁছায়, যাদের ৮০ শতাংশের বেশি অন্টারিওতে বসবাস করত,[১২] বিশেষত গ্রেটার টরন্টো এলাকায়।[১৩৫]

অস্ট্রেলিয়া

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলীয় কপ্টদের সংখ্যা ৩০ হাজার (এবিসি নিউজ, ২০১৭)[১৩৬] থেকে ১ লাখ (এসবিএস, ২০১৮) পর্যন্ত বলে অনুমান করা হয়েছে।[১৩৭] অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম কপ্টীয় অর্থোডক্স যাজক ১৯৬৯ সালে আসেন। অস্ট্রেলিয়ায় কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চ দুটি ডায়োসিসে সংগঠিত; প্রথমটি মেলবোর্নকেন্দ্রিক, যা ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দ্বিতীয়টি সিডনিকেন্দ্রিক, যা ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।[১৩৮] অস্ট্রেলিয়ায় একটি কপ্টীয় ক্যাথলিক গির্জা রয়েছে, যা ২০১৯ সালে পবিত্র করা হয়।[১৩৯]

মধ্যপ্রাচ্য

[সম্পাদনা]

মিশরের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছোট ছোট কপ্টীয় সম্প্রদায় রয়েছে; এর মধ্যে কুয়েত,[১৪০] জর্ডান এবং লেবানন উল্লেখযোগ্য।

জর্ডানে কপ্টদের একটি ছোট সম্প্রদায় রয়েছে। ২০০৫ সালে আম্মানের আবদালি জেলায় অবস্থিত ভার্জিন মেরি কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চে ৮ হাজার সদস্য ছিল, যাদের অধিকাংশই মিশরীয়।[১৪১]

২০১২ সাল পর্যন্ত লেবাননের সিরিয়াক লীগ অনুমান করেছিল যে দেশটির কপ্টীয় জনসংখ্যা ৩ থেকে ৪ হাজার।[১৪২]

২০১৪ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার কপ্ট বসবাস করত, যাদের অধিকাংশই জেরুজালেমে থাকত।[১৪৩]

ইউরোপ

[সম্পাদনা]

ইউরোপে ফ্রান্সে কপ্টদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি; তাদের সংখ্যা আনুমানিক ৪৫ হাজার।[১৩] এর পর রয়েছে ইতালি (৩০,০০০),[১৪] যুক্তরাজ্য (২৫,০০০–৩০,০০০)[১৫] এবং নেদারল্যান্ডস (১০,০০০)।[১৭]

২০১৭ সাল পর্যন্ত জার্মানিতে ৬ থেকে ১০ হাজার কপ্ট বসবাস করত বলে অনুমান করা হয়েছিল।[১৪৪] ২০২০-এর দশকে অস্ট্রিয়ার কপ্টীয় অর্থোডক্স জনসংখ্যা ১০ হাজার বলে অনুমান করা হয়েছিল, যদিও ২০০১ সালের অস্ট্রিয়ার আদমশুমারিতে—যেটিই দেশটির ধর্মীয় পরিচয় নথিভুক্ত করা সর্বশেষ আদমশুমারি—মাত্র ১,৬৩৩ জন কপ্টীয় অর্থোডক্সের হিসাব পাওয়া যায়।[১৪৫]

সুইজারল্যান্ডে প্রথম কপ্টরা ১৯৬০-এর দশকে আসে; তাদের অধিকাংশই ছিল শিক্ষার্থী এবং ১৯৫২ সালের বিপ্লবের পর মিশর থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তি। ২০০৪ সালে সুইজারল্যান্ডে প্রথম কপ্টীয় গির্জা চালু হয়; সে সময় দেশটিতে প্রায় ১ হাজার কপ্ট বসবাস করত।[১৪৬]

আর্থসামাজিক অবস্থা

[সম্পাদনা]

মিশরে কপ্টদের সাধারণত তুলনামূলকভাবে উচ্চ শিক্ষাগত অর্জন, আয় এবং পেশাজীবী ও দাপ্তরিক পেশায় প্রতিনিধিত্বের জন্য চিহ্নিত করা হয়, যদিও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের অংশগ্রহণ এখনও সীমিত।[৬১] মিশরে কপ্টদের অধিকাংশ আর্থসামাজিক ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সূচক মোটামুটিভাবে মিশরীয় মুসলিমদের সূচকের সঙ্গে তুলনীয়।[১৪৭] ঐতিহাসিক তথ্যও ইঙ্গিত করে যে মিশরীয় খ্রিস্টানরা দেশের মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণিতে তাদের জনসংখ্যাগত অনুপাতের তুলনায় বেশি প্রতিনিধিত্ব করেছে।[১৪৮] ২০১৬ সালের হিসাবে, মিশরীয় খ্রিস্টানদের ৩৬% উচ্চশিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা সম্পন্ন করেছিল, যা মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার সর্বোচ্চ হারগুলোর একটি।[১৪৯]

উনিশ শতক ও বিশ শতকের শুরুর দিকে কপ্টরা মিশরের আর্থিক ও প্রশাসনিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। সরকারি দপ্তরগুলোতে তারা ব্যাপকভাবে হিসাবরক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিল এবং ১৯৬০-এর দশকের মধ্যে তারা দেশের ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর ৫১% মালিক ছিল বলে জানা যায়।[১৫০][১৫১] বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ধারণা করা হতো যে খ্রিস্টানরা মিশরের চিকিৎসকদের ৪৫% এবং ফার্মাসিস্টদের ৬০%।[১৫২]

কয়েকটি কপ্ট পরিবার, বিশেষত বেসরকারি খাতে, উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রভাব অর্জন করেছে। সাওয়ারিস পরিবার তাদের ওরাসকম শিল্পগোষ্ঠীর মাধ্যমে ২০০০-এর দশকের শুরুতে মিশরের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়িক পরিবারে পরিণত হয়; তাদের ব্যবসায় টেলিযোগাযোগ, নির্মাণ, পর্যটন ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল।[১৫৩][১৫৪][১৫৫] ২০০৮ সালে ফোর্বস তাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে অনুমান করেছিল।[১৫৬][১৫৭][১৫৮][১৫৯]

কিছু গবেষক কপ্ট সম্প্রদায়ের উচ্চ শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক অবস্থানের পেছনে সাক্ষরতা এবং মানবসম্পদের বিকাশের ওপর ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।[১৫০]

পুরাতন কায়রোর একটি গির্জায় কপ্টীয় ও আরবি শিলালিপি

কপ্টীয় ভাষা হলো মিশরীয় ভাষার সর্বশেষ পর্যায়। গবেষকদের মতে, “কপ্টীয়” শব্দটি ভাষাটির পরিবর্তে আরও যথাযথভাবে লিপি বোঝাতে ব্যবহার করা উচিত। এই লিপি খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতাব্দী থেকেই প্রবর্তিত হলেও, খ্রিস্টীয় ১ম শতাব্দী থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এটি মিশরীয় ভাষা লেখার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।[১৬০]

১৩শ শতাব্দী পর্যন্ত মিশরে কপ্টীয় একটি সাহিত্যিক ভাষা হিসেবে বিকশিত হতে থাকে।[৫৬] ১৬শ শতাব্দীর দিকে নিম্ন মিশরে এটি মিশরীয় আরবি এবং ঊর্ধ্ব মিশরে সাঈদি আরবি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। তবে ১৭শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এটি শিক্ষিত কপ্টদের শিক্ষার অংশ হিসেবে টিকে ছিল এবং কপ্টীয় বিদ্যালয়গুলোতেও নিয়মিত পড়ানো হতো।[৫৬][১৬১] ১৯শ শতকের শুরুর দিকে শাঁপোলিওঁর মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিক লিপি পাঠোদ্ধারে কপ্টীয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বর্তমানে কপ্টীয় ভাষা বিলুপ্ত হলেও এটি এখনও স্থানীয় মিশরীয় গির্জাগুলোর (কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চ ও কপ্টীয় ক্যাথলিক চার্চ) উপাসনার ভাষা। বিশ্বের বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এটি পড়ানো হয়, তবে মিশরে এর শিক্ষাদান সীমিত।

কপ্টীয় পাণ্ডুলিপির একটি পৃষ্ঠা, ৬ষ্ঠ–১৪শ শতাব্দী, মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্ট, নিউ ইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

কপ্টীয় ভাষার উপভাষাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

পঞ্জিকা

[সম্পাদনা]

কপ্টীয় বর্ষপঞ্জি, আলেকজান্দ্রীয় বর্ষপঞ্জি নামেও পরিচিত, কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চ ব্যবহার করে এবং ইথিওপিয়াও বিভিন্ন নামে এটিকে সরকারি বর্ষপঞ্জি হিসেবে ব্যবহার করে। এই বর্ষপঞ্জি প্রাচীন মিশরীয় বর্ষপঞ্জির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। প্রাচীন মিশরীয় বর্ষপঞ্জির ঋতুচ্যুতি এড়াতে খ্রিস্টপূর্ব ২৩৮ সালে তৃতীয় টলেমির সময় ক্যানোপাসের ফরমানের মাধ্যমে একটি সংস্কার প্রবর্তন করা হয়। এর আওতায় প্রতি চার বছরে একবার অতিরিক্ত একটি ষষ্ঠ এপাগোমেনাল দিন যোগ করার ব্যবস্থা করা হয়। তবে মিশরীয় পুরোহিতরা এই সংস্কারের বিরোধিতা করেন এবং খ্রিস্টপূর্ব ২৫ সাল পর্যন্ত এটি গৃহীত হয়নি। ওই সময় রোমান সম্রাট অগাস্টাস আনুষ্ঠানিকভাবে মিশরের বর্ষপঞ্জি সংস্কার করেন এবং সদ্য প্রবর্তিত জুলীয় বর্ষপঞ্জির সঙ্গে এটিকে স্থায়ীভাবে সমন্বিত রাখেন। প্রাচীন মিশরীয় বর্ষপঞ্জি থেকে পৃথক করার জন্য, যা মধ্যযুগ পর্যন্ত কিছু জ্যোতির্বিদ ব্যবহার করতেন, এই সংস্কারকৃত বর্ষপঞ্জি কপ্টীয় বর্ষপঞ্জি নামে পরিচিত হয়। এর বছর ও মাসগুলো ইথিওপীয় বর্ষপঞ্জির সঙ্গে মিলে যায়, তবে সংখ্যা ও নাম ভিন্ন।[১৬২]

কপ্টীয় বছর

[সম্পাদনা]
ঐতিহ্যবাহী কপ্টীয় লিপিতে লেখা কপ্টীয় অর্থোডক্স ক্রুশ: ‘যিশু খ্রিস্ট, ঈশ্বরের পুত্র’

কপ্টীয় বছর প্রাচীন মিশরীয় নাগরিক বছরের ধারাবাহিকতা, যাতে প্রতি চার মাস নিয়ে তিনটি ঋতুর বিভাজন বজায় রাখা হয়েছে। কপ্টীয় উপাসনাপদ্ধতিতে বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে এই তিনটি ঋতুকে স্মরণ করা হয়। বিভিন্ন কৃষি ঋতুর হিসাব রাখার জন্য মিশরের কৃষকেরা এখনও এই বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করেন। কপ্টীয় বর্ষপঞ্জিতে ১৩টি মাস রয়েছে; এর মধ্যে ১২টি মাসের প্রতিটিতে ৩০ দিন এবং বছরের শেষে ৫ বা ৬ দিনের একটি অধিবর্ষীয় মাস থাকে, বছরটি অধিবর্ষ কি না তার ওপর নির্ভর করে। বছর শুরু হয় জুলীয় বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ২৯ আগস্ট অথবা জুলীয় অধিবর্ষের আগের বছরে ৩০ আগস্ট। কপ্টীয় অধিবর্ষ জুলীয় বর্ষপঞ্জির একই নিয়ম অনুসরণ করে। ফলে জুলীয় অধিবর্ষের আগের বছরে অতিরিক্ত মাসটিতে সবসময় ছয় দিন থাকে।[১৬৩]

নেইরুজ উৎসব কপ্টীয় বছরের প্রথম দিনকে চিহ্নিত করে। এর উদ্‌যাপন মিশরীয় বছরের প্রথম মাস থোত মাসের প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হয়। ১৯০১ থেকে ২০৯৮ সাল পর্যন্ত এটি সাধারণত গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির ১১ সেপ্টেম্বরের সঙ্গে মিলে যায়, তবে গ্রেগরীয় অধিবর্ষের আগের বছরে ১২ সেপ্টেম্বর হয়। কপ্টীয় বছর গণনা করা হয় ২৮৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে, যে বছর ডায়োক্লেটিয়ান রোমান সম্রাট হন। তাঁর শাসনকাল খ্রিস্টানদের ওপর, বিশেষত মিশরে, নির্যাতন ও ব্যাপক মৃত্যুদণ্ডের জন্য চিহ্নিত ছিল। তাই কপ্টীয় বছরকে এ.এম. সংক্ষিপ্ত রূপ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়, যা Anno Martyrum বা “শহীদদের বছর” বোঝায়।[১৬৪][১৬৫] একই এ.এম. সংক্ষিপ্ত রূপটি এর সঙ্গে সম্পর্কহীন ইহুদি বছর বোঝাতেও ব্যবহৃত হয় (আন্নো মুন্ডি)।

জুলীয় বর্ষপঞ্জির মতোই প্রতি চার বছর পরপর কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই কপ্টীয় বছর অধিবর্ষ হয়। তাই গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জিতে ওপরের নতুন বছরের তারিখগুলো কেবল ১৯০০ থেকে ২০৯৯ সাল পর্যন্ত প্রযোজ্য। জুলীয় বর্ষপঞ্জিতে নতুন বছর সবসময় ২৯ আগস্ট, তবে জুলীয় অধিবর্ষের আগের বছরে এটি ৩০ আগস্ট হয়। ইস্টারের তারিখ পুরোনো বর্ষপঞ্জি অনুসারী পদ্ধতিতে জুলীয় বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়।

কপ্টীয় বছরের সংখ্যা নির্ণয় করতে জুলীয় বছরের সংখ্যা থেকে জুলীয় নতুন বছরের আগে হলে ২৮৩ এবং পরে হলে ২৮৪ বিয়োগ করতে হয়।[১৬৬]

সংগীত

[সম্পাদনা]

কপ্টীয় সংগীত হলো কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চ ও কপ্টীয় ক্যাথলিক চার্চে গাওয়া ও পরিবেশিত সংগীত। এর কিছু শিকড় প্রাচীন মিশরের সংগীতে রয়েছে এবং প্রাচীন মিশরীয় সংগীতের বহু উপাদান অতিরিক্ত বাইজেন্টাইন ও হিব্রু প্রভাবের সঙ্গে কপ্টীয় ধর্মীয় সংগীতে এখনও টিকে আছে।[১৬৭][১৬৮] এতে প্রধানত স্তোত্র গাওয়া হয় এবং এর সঙ্গে করতাল ও ত্রিভুজের মতো বাদ্যযন্ত্র ব্যবহৃত হয়। কপ্টীয় চার্চে ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্রগুলো খ্রিস্টীয় ধর্মীয় সংগীতের অন্যান্য ধারায় অস্বাভাবিক। যেহেতু একই ধরনের বাদ্যযন্ত্র প্রাচীন মিশরীয় দেওয়ালচিত্র ও উৎকীর্ণচিত্রে দেখা যায়, তাই কেউ কেউ মনে করেন এগুলো অত্যন্ত প্রাচীন একটি ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। কপ্টীয় সংগীত সম্পূর্ণরূপে ধর্মীয়।

কপ্টীয় গানের ঐতিহ্য প্রাচীন এবং এর সঙ্গে প্রাচীন মিশরের সংগীতচর্চার যোগসূত্র রয়েছে।[১৬৯][১৭০] এর একটি উদাহরণ হলো পুণ্য শুক্রবারে গাওয়া একটি স্তোত্র, যা রাজকীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠানে প্রাচীন মিশরীয় পুরোহিতদের ব্যবহৃত সুর থেকে উদ্ভূত হয়ে থাকতে পারে।[১৭০]

কপ্টীয় সংগীত হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মৌখিকভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রচারিত হয়েছে এবং সংগীত লিপিবদ্ধ করার জন্য পাণ্ডুলিপি, স্বরলিপি ও গ্রন্থের ব্যবহার শুরু হয়েছে অপেক্ষাকৃত সাম্প্রতিক সময়ে।[১৬৭][১৬৮]

নির্যাতন ও বৈষম্য

[সম্পাদনা]

মিশরে ধর্মীয় স্বাধীনতা সংবিধান দ্বারা নিশ্চিত করা হলেও বাস্তবে তা সীমিত, বিশেষত কপ্টীয় খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে। বৈষম্যমূলক নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ঐতিহাসিকভাবে গির্জা নির্মাণ ও সংস্কারের কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে। ২০০৫ সাল পর্যন্ত সামান্য সংস্কারের জন্যও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। পরে এই ক্ষমতা গভর্নরদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ২০১৬ সালের গির্জা নির্মাণ আইন এর প্রক্রিয়া আরও সহজ করে।[১৭১][১৭২]

কপ্টরা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৯৯–২০০০ সালের এল-কোশেহ সংঘর্ষ, যাতে ২১ জন নিহত হয়,[১৭৩][১৭৪] ২০০৬ সালে আলেকজান্দ্রিয়ার গির্জাগুলোতে হামলা,[১৭৫][১৭৬] এবং ২০১০ সালে মার্সা মাতরুহে জনতার সহিংসতা।[১৭৭] একই সময়ের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশ প্রায়ই দেরিতে পৌঁছাত, কপ্টদের তথাকথিত “পুনর্মিলন” বৈঠকে অংশ নিতে চাপ দিত এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে খুব কমই মামলা করা হতো।[১৭৮]

২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর প্রতিশোধমূলক হামলায় গির্জা ও খ্রিস্টানদের সম্পত্তি লক্ষ্যবস্তু হয়। অন্তত ৪৫টি গির্জায় হামলা চালানো হয় এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের বক্তব্য সহিংসতায় উসকানি দিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।[১৭৯][১৮০][১৮১]

মানবপাচার ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কপ্টীয় নারী ও মেয়েরা অপহরণ, জবরদস্তি ও জোরপূর্বক বিয়ের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা ও যোগসাজশ নিয়ে আইনপ্রণেতা এবং বেসরকারি সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।[১৮২][১৮৩][১৮৪]

সরকারি পদ, নিরাপত্তা বাহিনী ও বিচার বিভাগে কপ্টদের প্রতিনিধিত্ব কম। রাষ্ট্রপতি মুবারকের শাসনামলে মাত্র কয়েকজন কপ্ট মন্ত্রিসভা বা গভর্নরের পদে ছিলেন।[১৮৫][১৮৬]

মিশরে ধর্মান্তরসংক্রান্ত আইন এখনও অসমতামূলক। ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি সহজে স্বীকৃত হলেও ইসলাম থেকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিরা আইনি ও আমলাতান্ত্রিক বাধার মুখোমুখি হন। কিছু ধর্মান্তরিত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা পরিচয়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।[১৮৭][১৮৮] ২০০৮ সালের একটি আদালতের রায়ে ইসলাম গ্রহণের পর ১২ জন নাগরিককে পুনরায় খ্রিস্টান হিসেবে নিবন্ধনের অনুমতি দেওয়া হলেও সরকারি নথিতে তাদের মুসলিম হিসেবে থাকার সময়কাল উল্লেখ করার শর্ত দেওয়া হয়।[১৮৯]

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধীরে ধীরে কিছু উন্নতি হয়েছে। গির্জা নির্মাণ সহজ হয়েছে; ২০১৬ সালের আইনের অধীনে হাজার হাজার গির্জা বৈধতা পেয়েছে এবং বাধা দেওয়ার অভিযোগও কমেছে।[১৯০] ওপেন ডোরসের বিশ্ব পর্যবেক্ষণ তালিকায় মিশর ২০১৩ সালে ৫০টি দেশের মধ্যে ২৫তম অবস্থানে ছিল এবং ২০২৫ সালে ৪০তম অবস্থানে ছিল; এতে নথিভুক্ত নির্যাতনের মাত্রা হ্রাস পাওয়ার ইঙ্গিত মেলে, যদিও সামাজিক ও আইনি চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।[১৯১]

গির্জার বিষয়াবলি

[সম্পাদনা]

বর্তমানে অ-খলকেদোনীয় কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চের সদস্যরা মিশরের খ্রিস্টান জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ। অন্যান্য খ্রিস্টানদের প্রবাসী সম্প্রদায়, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগতরা, মিশরের গির্জাগুলোর বৈচিত্র্য আরও বাড়িয়েছে; এসব সম্প্রদায়ের সদস্যরা নিজেরা মিশরীয় নন। এর মধ্যে রয়েছে সহোদর প্রাচ্যদেশীয় অর্থোডক্স গির্জা (সিরীয় অর্থোডক্স চার্চ, আর্মেনীয় অ্যাপোস্টলিক চার্চ এবং ইথিওপীয় অর্থোডক্স তেওয়াহেদো চার্চ), রোমান ক্যাথলিক গির্জা, প্রাচ্যদেশীয় ক্যাথলিক গির্জা এবং প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জা। পাশ্চাত্যের ধর্মপ্রচারকদের কর্মকাণ্ডের ফলেও স্থানীয় কপ্টদের বিভিন্ন প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জায় ধর্মান্তর ঘটেছে। তবে “কপ্টীয়” শব্দটি মিশরীয় বংশোদ্ভূতদের জন্যই ব্যবহৃত হয়; মিশরীয় বংশোদ্ভূত নন এমন খ্রিস্টানদের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়। উদাহরণস্বরূপ, কিছু প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জাকে “কপ্টীয় ইভানজেলিক্যাল চার্চ” বলা হয়। এর ফলে তাদের স্থানীয় মিশরীয় মণ্ডলীকে ইউরোপীয় বা মার্কিন অভিবাসী সম্প্রদায়ের মতো অ-মিশরীয় অভিবাসী সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত গির্জা থেকে পৃথক করা যায়।[১৯২]

কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চের পূর্ববর্তী প্রধান আলেকজান্দ্রিয়ার পোপ তৃতীয় শেনুদা ১৭ মার্চ ২০১২ সালে মারা যান। ৪ নভেম্বর ২০১২ সালে বিশপ তাওয়াদ্রোস মিশরের কপ্টীয় খ্রিস্টানদের নতুন পোপ হিসেবে নির্বাচিত হন। কায়রোর সেন্ট মার্ক ক্যাথেড্রালে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত তালিকায় থাকা তিন প্রার্থীর নাম একটি কাচের পাত্রে রাখা হয় এবং চোখ বাঁধা এক বালক সেখান থেকে একটি নাম তুলে নিলে তাঁর নাম নির্বাচিত হয়।[১৯৩]

পরিচয়

[সম্পাদনা]
কপ্টীয় ক্রুশ ফিলাই মন্দির প্রাঙ্গণের একটি স্তম্ভে

কপ্টরা ঐতিহাসিকভাবে মিশরীয় পরিচয়ের প্রতি দৃঢ় অনুভূতি বজায় রেখেছে, যা তাদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অভিব্যক্তিতে ভূমিকা রেখেছে।[১৯৪][১৯৫][১৯৬][১৯৭][৮৫] ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে কপ্টরা প্যান-আরববাদ ও ইসলামবাদের মতো বৃহত্তর আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রতি বিরোধিতা প্রকাশ করেছে এবং মিশরের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছে।[১৯৮]

জাতিগত অর্থে কপ্টীয় পরিচয়ের ধারণার বিকাশ শুরু হয় গ্রিক-রোমান মিশরে বিদেশি শাসনের পটভূমিতে; প্রথমে টলেমীয়দের এবং পরে রোমান সম্রাটদের অধীনে। গ্রিক-রোমান মিশরে কপ্ট বলতে অভিজাত বিদেশি শাসক ও বসতিস্থাপনকারীদের (গ্রিক, রোমান প্রভৃতি), যারা অন্যান্য অঞ্চল থেকে মিশরে এসে প্রভাবশালী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল, বিপরীতে মিশরের স্থানীয় জনগণকে বোঝানো হতো। ওই সময় বিদেশি শাসকেরা মিশরীয়দের ও তাদের স্থানীয় ধর্মকে সম্মান করত এবং মিশরীয় দেবতাদের উদ্দেশে বহু মন্দির নির্মাণ করেছিল, যেমন এদফুতে হোরাসের মন্দির এবং দেন্দেরায় হাতোরের মন্দির।[১৯৯] এই অভিবাসী ও বিদেশি ফারাওদের উপস্থিতি সত্ত্বেও মিশর মূলত মিশরীয়দেরই আবাসভূমি ছিল এবং জনসংখ্যার মধ্যে তারাই ছিল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ।[৭১] প্রকৃতপক্ষে, নীল উপত্যকাজুড়ে শহর, গ্রাম ও ছোট জনপদে বসবাসকারী অধিকাংশ গ্রামীণ ও শহুরে স্থানীয় জনগণ টলেমীয়দের শাসনামলেও খুব সামান্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন অব্যাহত রেখেছিল।[৭১] এমনকি টলেমীয় মিশরের রাজধানী এবং গ্রিসের বাইরে বৃহত্তম গ্রিক নগর আলেকজান্দ্রিয়াতেও স্থানীয় মিশরীয়দের সংখ্যা গ্রিকদের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।[৭২] জনসংখ্যা ও সংস্কৃতি—উভয় দিক থেকেই মিশর মূলত মিশরীয়ই ছিল।[৭৩]

শুধু জাতিগত গোষ্ঠী নয়, বরং একটি জাতি-ধর্মীয় গোষ্ঠী হিসেবে কপ্টদের পরিচয় নির্ধারণের ভিত্তি গড়ে ওঠে খ্রিস্টীয় চতুর্থ ও পঞ্চম শতকে, যখন মিশরের স্থানীয় খ্রিস্টান গির্জার মতবাদ ও সাম্রাজ্যের গির্জার মতবাদের মধ্যে পার্থক্য দেখা দিতে শুরু করে। চতুর্থ শতকে সম্রাট কনস্টান্টাইনের হাতে মিশরের স্থানীয় পিতৃপুরুষ আথানাসিয়াসের নির্যাতন ও নির্বাসন মিশরের গির্জার মিশরীয় চরিত্রের প্রতীক হয়ে ওঠে।[২০০] আথানাসিয়াসের ওপর নির্যাতন পরবর্তী আলেকজান্দ্রিয়ার পিতৃপুরুষদের একটি বিশেষ ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করে; তাদের বারবার বহিরাগত ও অ-মিশরীয়দের বিরুদ্ধে সত্যের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।[২০০] ৪৫১ খ্রিস্টাব্দে খলকেদনের কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিক বিভাজন ঘটে। এই কাউন্সিল আলেকজান্দ্রিয়ার স্থানীয় মিশরীয় পিতৃপুরুষ প্রথম দিওস্কোরোসকে নিন্দা, পদচ্যুত, নির্বাসিত ও তাঁর স্থলে অন্য ব্যক্তিকে নিয়োগ করে; মিশরীয় প্রতিনিধিদল এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে এবং এর ফলে স্থানীয় মিশরীয় জনগণের বৃহত্তর অংশও তা প্রত্যাখ্যান করে। খলকেদনের কাউন্সিলের ফলে সমগ্র মিশর এবং সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশের ওপর এখতিয়ার থাকা আলেকজান্দ্রিয়ার গির্জা এমন একটি গির্জায় বিভক্ত হয়, যা কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল, এবং অন্য একটি গির্জায়, যা তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী গির্জাটি খলকেদোনীয় গির্জা নামে পরিচিত হয় এবং বর্তমানে আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রিক অর্থোডক্স পিতৃপ্রধানের গির্জা হিসেবে টিকে আছে। অন্যদিকে, খলকেদনের কাউন্সিল প্রত্যাখ্যানকারী গির্জাটি, যার সঙ্গে স্থানীয় মিশরীয়দের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যুক্ত ছিল, পরবর্তীকালে কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চের পূর্বসূরি হয়ে ওঠে।

খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের শাসনামলের পর স্থানীয় মিশরীয়দের পরিচয় গঠনের প্রক্রিয়াটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়।[৮৬] এই প্রক্রিয়াই কপ্টীয় অর্থোডক্স চার্চের স্বতন্ত্র মিশরীয় চরিত্র বিকাশের ভিত্তি তৈরি করে; সাম্রাজ্যের সরকারি মতবাদ ও তার স্বতন্ত্র গ্রিক চরিত্র থেকে গির্জাটি ক্রমশ দূরত্ব বজায় রাখে।[৮৬] কপ্টরা তাদের গির্জাকে আথানাসিয়াস ও আলেকজান্দ্রিয়ার সিরিলের মতো মিশরীয় গির্জার পিতৃপুরুষদের সঙ্গে সরাসরি মতবাদগত ধারাবাহিকতায় যুক্ত বলে মনে করত। তাঁরা দুজনই আলেকজান্দ্রিয়ার গির্জার পোপ ছিলেন এবং তাঁদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্বব্যাপী অর্থোডক্স খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের ভিত্তি গঠন করেছিল।[২০১] কপ্টীয় সম্প্রদায়ের আত্মপরিচয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল স্থানীয় মিশরীয় খ্রিস্টান শহীদদের সৃষ্টি করা সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের জাতিগত ও ধর্মীয় ধারাবাহিকতা।[২০২]

সেন্ট মার্ক কপ্টীয় ক্যাথেড্রাল আলেকজান্দ্রিয়ায়

৬৪১ খ্রিস্টাব্দে আরবদের মিশর বিজয়ের সময় নাগাদ কপ্টরা একটি স্বতন্ত্র জাতি-ধর্মীয় পরিচয় গড়ে তুলেছিল, যা ছিল মিশরীয় ও অ-খলকেদোনীয়; এর বিপরীতে শাসক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের পরিচয় ছিল মূলত গ্রিক ও খলকেদোনীয়। বাগনাল এবং অন্যান্য ইতিহাসবিদদের মতে, আরব মুসলিম শাসনের অধীনে ভারী কর, যেমন জিজিয়া (ইসলামি শরিয়াহ আইনে কেবল অমুসলিমদের ওপর আরোপিত কর), জোরপূর্বক শ্রম বা সামরিক নিয়োগ এড়ানোর সুযোগ, নির্যাতনের আশঙ্কা এবং অধিকতর সামাজিক ও আইনি উন্নতির সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন কারণের সমন্বয়ে পরবর্তী কয়েক শতকে বহু মিশরীয় ধীরে ধীরে ইসলাম গ্রহণ করে।[৮৮] ইসলাম গ্রহণকারী কপ্টরা মাওয়ালি (অ-আরব মুসলিম) নামে পরিচিত হয় এবং প্রাথমিক ইসলামি যুগে তাদের সামাজিক ও আইনি মর্যাদা আরব মুসলিমদের তুলনায় নিম্নতর ছিল। প্রাথমিক ইসলামি মিশরে “আরব” বলতে মূলত আরব বংশোদ্ভূত শাসক অভিজাতদের বোঝানো হতো। তৎকালীন সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসে ধিম্মি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ কপ্টীয় খ্রিস্টানদের আইনি ও সামাজিক মর্যাদা আরব মুসলিম এবং মাওয়ালি (অ-আরব ধর্মান্তরিত মুসলিম)—উভয়ের তুলনায় নিম্ন ছিল।[২০৩][২০৪] সময়ের সঙ্গে “কপ্ট” শব্দটি কেবল সেই মিশরীয়দের বোঝাতে ব্যবহৃত হতে থাকে, যারা তাদের খ্রিস্টীয় বিশ্বাস বজায় রেখেছিল।[৮৮]

ইসলামি শাসনের অধীনে কপ্টীয় পরিচয় খলকেদোনীয়দের থেকে পৃথক ধর্মতত্ত্ব ও খ্রিস্টতত্ত্বের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত হতে থাকে। তবে দেশে অ-মিশরীয়দের উপস্থিতির কারণে কপ্টীয় পরিচয়ে কপ্টদের স্থানীয় মিশরীয় চরিত্রের ওপরও জোর দেওয়া শুরু হয়।[২০৫] মুসলিমরা, যাদের অধিকাংশই ছিল মিশরীয় ধর্মান্তরিত এবং অপেক্ষাকৃত কমসংখ্যক আরব, ধীরে ধীরে গ্রামাঞ্চলে বসতি স্থাপন করতে শুরু করলে তারা এমন একটি “অন্য” গোষ্ঠীতে পরিণত হয়, যার বিপরীতে কপ্টীয় পরিচয় আরও স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত হতে থাকে।[২০২] কপ্টীয় সন্ন্যাসবাদ মিশরে কপ্টীয় পরিচয় সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এভাবেই কপ্টদের মিশরীয় খ্রিস্টীয় পরিচয় গঠিত হয়। পরে বড় শহরগুলোর বাইরে আরবি ভাষার বিস্তারের সঙ্গে মিশরীয় গির্জা “কপ্টীয়” নামে পরিচিত হয় এবং স্থানীয় মিশরীয় খ্রিস্টানরা “কপ্ট” নামে পরিচিত হতে থাকে; অষ্টম ও নবম শতকে এই অর্থগত পরিবর্তন ঘটে।[২০৬] তবুও কপ্টরা তাদের নিজস্ব কপ্টীয় ভাষায় আজও নিজেদের ⲛⲓⲣⲉⲙⲛ̀ⲭⲏⲙⲓ (মিশরীয়) এবং তাদের গির্জাকে Ϯⲉⲕ̀ⲕⲗⲏⲥⲓⲁ ⲛ̀ⲣⲉⲙⲛ̀ⲭⲏⲙⲓ ⲛ̀ⲟⲣⲑⲟⲇⲟⲝⲟⲥ (মিশরীয় অর্থোডক্স গির্জা) বলে অভিহিত করে।

আধুনিক যুগে ১৯৫০-এর দশকের গোড়ার দিকে নাসেরের সময় প্যান-আরববাদের উত্থানের আগে কপ্টীয় পরিচয়ের প্রশ্ন বিশেষভাবে উত্থাপিত হয়নি। এর আগে মিশরীয় মুসলিম ও মিশরীয় খ্রিস্টান উভয়েই নিজেদের কেবল মিশরীয় হিসেবে দেখত এবং আরব পরিচয়ের প্রতি কোনো বিশেষ অনুভূতি পোষণ করত না।[৫০] নাসের ও তাঁর শাসনব্যবস্থা যখন দেশের ওপর আরব পরিচয় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং একটি পৃথক ও স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে মিশরের সব উল্লেখ মুছে ফেলার উদ্যোগ নেয়, তখন এই মিশরীয় পরিচয় বজায় রাখার সংগ্রাম শুরু হয়।[২০৭] বর্তমানে কপ্ট ও অনেক মিশরীয় মুসলিম আরব জাতীয়তাবাদ প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের স্থানীয় মিশরীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পাশাপাশি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা ও জিনগত বৈশিষ্ট্যের ওপর জোর দেয়।[২০৭] নির্যাতন কপ্টদের পরিচয়বোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।[২০৮]

জিনতত্ত্ব

[সম্পাদনা]

৭ম শতকে আরবদের মিশর বিজয়ের পর “কপ্ট” শব্দটি মিশরের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, যারা তখন সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে খ্রিস্টান ছিল। সময়ের সঙ্গে “কপ্ট” বলতে ইসলাম গ্রহণকারী মিশরীয়দের থেকে পৃথক মিশরীয় খ্রিস্টানদের বোঝাতে শুরু করে। প্রাচীন মিশরের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক কপ্টীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও আধুনিক কপ্টরা বৃহত্তর মিশরীয় জনগোষ্ঠীর অংশ, যাদের ওপর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রভাব ও তাদের খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের প্রভাব রয়েছে। জিনগত গবেষণায় দেখা গেছে, মিশরের মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় জনগোষ্ঠীই মূলত ইসলাম-পূর্ব মিশরীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর।[৫৪][২০৯][২১০][২১১][১৯৫][২১২]

গবেষক ক্রিস্টোফার এরেট, ডেভিড শোয়েনব্রুন, স্টিভেন এ. ব্রান্ডট এবং এসওয়াই কিটারের মতে, নীল উপত্যকা দীর্ঘ সময় ধরে জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক সংযোগের একটি সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করেছে। তাঁরা প্রকাশিত বিভিন্ন জিনগত গবেষণার উল্লেখ করেছেন, যেখানে কপ্ট জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ই১বি১-এর সাদৃশ্য শনাক্ত করা হয়েছে; এই বৈশিষ্ট্য আফ্রো-এশীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ইথিওপীয়, কুশিটীয়, বেজা, সেমিটীয় ও বার্বার জনগোষ্ঠীর মধ্যেও সাধারণ।[২১৩] এই গবেষকেরা কপ্ট জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত বিভিন্ন জিনগত গবেষণার উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে “(Cruciani et al. 2007; Keita 2008) show for its population: 38.3–60% of M35 and 2–6.9% for M2; M89 12– 58%, and smaller percentages of other haplogroups e.g. B. One Coptic sample from a community that emigrated from Egypt to Sudan had frequencies of 17% of M35, 67% of M89, and 15% of B (Hassan et al. 2008). Another sample of Copts from Adaima in Egypt had >70% of M35, majority M78 (Crubezy 2010)”.[২১৩]

সুদানের কপ্টদের ওপর ওয়াই-ডিএনএ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তাদের প্রায় ৪৫% হ্যাপ্লোগ্রুপ জে বহন করে। অবশিষ্টদের অধিকাংশ ই১বি১বি ক্লেডের অন্তর্ভুক্ত (২১%)। উভয় পিতৃসূত্রীয় বংশধারা অন্যান্য স্থানীয় আফ্রো-এশীয় ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর (বেজা, ইথিওপীয়, সুদানি আরব) পাশাপাশি নুবীয়দের মধ্যেও সাধারণ।[২১৪]

ই১বি১বি/ই৩বি৩১-এর সর্বোচ্চ হার দেখা যায় উত্তর আফ্রিকান, লেভান্তীয় মধ্যপ্রাচ্যবাসী এবং ইথিওপীয়-উদ্ভূত পূর্ব আফ্রিকান জনগোষ্ঠীর মধ্যে।[২১৫] সুদানের কপ্টদের মধ্যে পরবর্তী সর্বাধিক প্রচলিত হ্যাপ্লোগ্রুপ হলো ইউরোপীয় বংশধারার সঙ্গে যুক্ত আর১বি ক্লেড (১৫%) এবং প্রাচীন আফ্রিকান বি বংশধারা (১৫%)।[২১৪] মাতৃসূত্রীয়ভাবে, সুদানের কপ্টরা একচেটিয়াভাবে ম্যাক্রোহ্যাপ্লোগ্রুপ এন-এর বিভিন্ন বংশধারা বহন করে। এই মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ ক্লেডটিও স্থানীয় আফ্রো-এশীয় ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী, যার মধ্যে বার্বার ও ইথিওপীয়-উদ্ভূত জনগোষ্ঠী রয়েছে, তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। কপ্টদের বহন করা এন-এর বংশধারাগুলোর মধ্যে ইউ৬ সবচেয়ে বেশি (২৮%), এরপর হ্যাপ্লোগ্রুপ টি (১৭%)।[২১৬] জিনগত গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাচীন মিশরীয়রা দক্ষিণ ইউরোপ ও নুবিয়ার জনগোষ্ঠীর (দুটি বহুল ব্যবহৃত তুলনামূলক মানদণ্ড) মধ্যবর্তী জিনগত অবস্থানে ছিল।[২১৭]

২০১৫ সালে ডোবন প্রমুখের একটি গবেষণায় পশ্চিম ইউরেশীয় উৎসের একটি পূর্বপুরুষগত স্বয়ংক্রোমীয় উপাদান শনাক্ত করা হয়, যা উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার বহু আধুনিক আফ্রো-এশীয় ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাধারণ। “কপ্টীয়” উপাদান নামে পরিচিত এই বৈশিষ্ট্যটি গত দুই শতাব্দীতে মিশর থেকে সুদানে বসতি স্থাপনকারী মিশরীয় কপ্টদের মধ্যে সর্বাধিক দেখা যায়। তাদের বিশ্লেষণে সুদানের কপ্টরা প্রধান উপাদান বিশ্লেষণে একটি পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত হয়, যা অন্যান্য মিশরীয়, আফ্রো-এশীয় ভাষাভাষী উত্তর-পূর্ব আফ্রিকান এবং মধ্যপ্রাচ্যের জনগোষ্ঠী থেকে সামান্য দূরে অবস্থান করে। গবেষকেরা মনে করেন, এটি মিশরের সাধারণ জনগোষ্ঠী অথবা মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার জনগোষ্ঠীর একটি অভিন্ন উৎসের দিকে ইঙ্গিত করে। সাধারণভাবে কপ্টরা উত্তর আফ্রিকা/মধ্যপ্রাচ্যের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে একই প্রধান পূর্বপুরুষগত উপাদান ভাগ করে। গবেষণাটি কপ্টদের মিশরের প্রাচীনতম জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করার পক্ষে প্রমাণ দেয়; কারণ সুদানের কপ্টদের মধ্যে আধুনিক মিশরীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান পরবর্তী আরব প্রভাব দেখা যায়নি।[২১৮]

২০১৭ সালে হলফেল্ডার প্রমুখের একটি সমগ্র-জিনোম গবেষণায় সুদান ও দক্ষিণ সুদানের ১৮টি পৃথক জনগোষ্ঠী থেকে প্রায় ৩৯ লাখ একক নিউক্লিওটাইড বহুরূপতার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়, যার মধ্যে কপ্ট সম্প্রদায়ের সদস্যরাও ছিলেন। প্রায় ২০০ বছর আগে মিশর থেকে সুদানে অভিবাসনকারী জাতিগত গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত কপ্টদের মিশরের মিশরীয়দের সঙ্গে সংমিশ্রণ বিশ্লেষণ ও প্রধান উপাদান বিশ্লেষণের মাধ্যমে তুলনা করা হয়। কপ্টদের জিনগত বৈশিষ্ট্য মিশরীয়দের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সাদৃশ্য প্রদর্শন করে। কমসংখ্যক গুচ্ছ ব্যবহারের ক্ষেত্রে উভয় গোষ্ঠীকেই নিকটপ্রাচ্য/ইউরোপীয় এবং উত্তর-পূর্ব সুদানি জনগোষ্ঠীর মিশ্রণ হিসেবে দেখা যায়। উচ্চতর বিশ্লেষণী সূক্ষ্মতায় (K≥18) কপ্টরা একটি স্বতন্ত্র পূর্বপুরুষগত উপাদান হিসেবে আবির্ভূত হয়, যা মিশরীয়দের মধ্যেও উপস্থিত।[২১৯]

গবেষণায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে জিনগত পার্থক্য খুব কম (FST = 0.00236) এবং ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত বলে অনুমান করা অংশের হারও প্রায় অভিন্ন পাওয়া যায়—কপ্টদের ক্ষেত্রে ৬৯.৫৪% ± ২.৫৭ এবং মিশরীয়দের ক্ষেত্রে ৭০.৬৫% ± ২.৪৭। আনুষ্ঠানিক ডি-পরিসংখ্যানের ফলাফলে কোনো একটি জনগোষ্ঠীতে অন্য গোষ্ঠীগুলো থেকে ভিন্ন মাত্রার সংমিশ্রণের উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় উভয় গোষ্ঠীর জিনগত বৈচিত্র্য কম এবং সমজাতীয়তার দীর্ঘ ধারাও বেশি ছিল। গবেষকেরা উপসংহারে বলেন, কপ্ট ও মিশরীয়দের একটি অভিন্ন জনসংখ্যাগত ইতিহাস রয়েছে এবং সুদানে অভিবাসনের পর কপ্টরা তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।[২১৯]

২০২০ সালের একটি গবেষণায় মিশরীয় মুসলিম ও মিশরীয় খ্রিস্টানদের মধ্যে জিনগত সম্পর্ক অনুসন্ধান করা হয়। এতে ৯টি স্বয়ংক্রোমীয় এসটিআর স্থান (D3S1358, VWA, FGA, THO1, TPOX, CSF1PO, D5S818, D13S317 এবং D7S820)-এর অ্যালিলের হার বিশ্লেষণ করা হয় এবং ২০০ জন অসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা ব্যবহার করা হয়, যাদের দুই গোষ্ঠীতে সমানভাবে ভাগ করা হয়েছিল। নমুনাগুলো মিশরের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা হয়।[২২০] অ্যালিলের হার, ফরেনসিক কার্যকারিতার পরামিতি, জনসংখ্যার সমজাতীয়তার চিত্র এবং গ্রাফিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে গবেষণায় দুই গোষ্ঠীর জিনগত সাদৃশ্যের মাত্রা মূল্যায়ন করা হয়। ফলাফলে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে শক্তিশালী জিনগত সম্পর্ক এবং উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্যের অনুপস্থিতি দেখা যায়। গবেষকেরা এর ভিত্তিতে উপসংহারে বলেন যে মিশরীয় মুসলিম ও খ্রিস্টানরা জিনগতভাবে একই পূর্বপুরুষগত জনগোষ্ঠী থেকে উদ্ভূত।[২২০]

বিশিষ্ট কপ্ট

[সম্পাদনা]
বুতরোস বুতরোস-ঘালি, সাবেক জাতিসংঘের মহাসচিব
ধনী সাওয়িরিস পরিবারের সদস্য নাগিব সাওয়িরিস; ধারণা করা হয়, তার ভাই সামিহের পর তিনি মিশরের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি

কয়েকজন সুপরিচিত কপ্ট হলেন:

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 Rocca, Francis X.; Kholaif, Dahlia (২৯ এপ্রিল ২০১৭)। "Pope Francis Calls on Egypt's Catholics to Embrace Forgiveness"। Wall Street Journal (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
  2. 1 2 Noha Elhennawy, Egyptian woman fights unequal Islamic inheritance laws, Associated Press (November 15, 2019).
  3. 1 2 3 Fitch, Asa (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। "5 Things to Know About Egypt's Coptic Christians"। Wall Street Journal (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
  4. ↑ "Egyptian Coptic protesters freed"। BBC News। ২২ ডিসেম্বর ২০০৪।
  5. ↑ "Egypt"। The World Factbook। Central Intelligence Agency। ১০ এপ্রিল ২০২৩। ৪ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  6. ↑ "Copts in Egypt"। Minority Rights Group। অক্টোবর ২০১৭।
  7. ↑ "Counting Coptic Christians in Egypt – Providence"। ২৬ মে ২০২৩।
  8. 1 2 3 Telushkin, Shira (৩১ মার্চ ২০১৮)। "The Americanization of an Ancient Faith"। The Atlantic (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১২ জুলাই ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
  9. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 Sudan: Copts, World Directory of Minorities and Indigenous Peoples, Minority Rights Group International (June 2018)
  10. 1 2 In the year 2003, there was an estimated 70,000 Copts in New South Wales alone: "Coptic Orthodox Church (NSW) Property Trust Act 1990"। New South Wales Consolidated Acts।
  11. 1 2 Kjeilen, Tore। "Coptic Church"। LookLex Encyclopedia। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০১৬।
  12. 1 2 3 Shenaz Kermalli, Canadian Copts Ponder Future of Their Faith, Religion News Service (April 25, 2017).
  13. 1 2 3 In the year 2017, there was an estimated 45,000 Copts in France: "Qui sont les coptes en France ?"। La Croix। ১৬ মার্চ ২০১৭।
  14. 1 2 3 "La Chiesa copta"। ১০ মার্চ ২০১৪।
  15. 1 2 3 Copts number at least 20,000 in Britain "Middle Killeavy Parish Web Site"। ২১ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ আগস্ট ২০০৮। plus another 5,000 – 10,000 Copts who are directly under the British Orthodox Church (1999 figures)[অধিগ্রহণকৃত!] উদ্ধৃতি ত্রুটি: ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "middlekilleavy.com" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  16. 1 2 Teller, Matthew (১২ জুলাই ২০১৫)। "Free to pray – but don't try to convert anyone"। BBC। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০১৫। Ten-thousand or more live in the UAE, and young, bearded priest Father Markos, 12 years in Dubai, told me his flock are "more than happy – they enjoy their life, they are free."
  17. 1 2 3 "'De Koptische kerk telt in Nederland ongeveer tienduizend leden, die grotendeels afkomstig zijn uit Egypte.'"। ১২ জুলাই ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১৯।
  18. ↑ Minahan 2002, p. 467
  19. ↑ Setiyono, Mozes Adiguna (২০২৩)। "From Pan-Arabism to Pharaonism: Egypt's Gradual Change of National Identity during the Sisi Era"। Global Strategis। ১৭ (2): ৩১২।
  20. ↑ Erman, Adolf (১৯৭১)। Life in Ancient Egypt। Egypt Series। Courier Corporation। পৃ. ২৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪৮৬-২২৬৩২-৩।
  21. ↑ Lefkowitz, Mary R.; Rogers, Guy MacLean (১৯৯৬)। Black Athena Revisited (ইংরেজি ভাষায়)। UNC Press Books। পৃ. ১৫৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮০৭৮-৪৫৫৫-৪।
  22. ↑ Pateman, Robert & Salwa El-Hamamsy (২০০৩)। Egypt। New York: Marshall Cavendish Benchmark। পৃ. ৫৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৬১৪-১৬৭০-৮।
  23. ↑ Colla, Elliott (২০০৮)। Conflicted Antiquities: Egyptology, Egyptomania, Egyptian Modernity। Duke University Press। পৃ. ১২৮। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮২২৩-৯০৩৯-৮।
  24. ↑ See [১৯][২০][২১][২২][২৩]
  25. ↑ Cannuyer, Christin (২০০১)। Coptic Egypt: The Christians of the Nile। Thames & Hudson। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫০০-৩০১০৪-৩।
  26. ↑ Minahan, James B. (২০১৬)। Encyclopedia of Stateless Nations: Ethnic and National Groups Around the World (2nd সংস্করণ)। Greenwood। পৃ. ১০৮। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬১০৬৯-৯৫৩-২।
  27. ↑ Elmasry, Iris Habib (১৯৭৮)। The Story of the Copts। St. Anthony Coptic Orthodox Monastery Publications। পৃ. ২৪৭। এএসআইএন B00NHR2KJW।
  28. ↑ Tadros, Mariz (২০১৩)। Copts at the Crossroads: The Challenges of Building Inclusive Democracy in Contemporary Egypt। Oxford University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৭৭-৪১৬-৫৯১-৭।
  29. ↑ See [২৫][২৬][২৭][২৮]
  30. ↑ "Coptic Christianity", worldatlas.com, ৩ এপ্রিল ২০১৮
  31. ↑ "Saint Mark Cathedral", alexandria.gov.eg, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  32. ↑ "Who are Egypt's Coptic Christians?"। CNN। ১০ এপ্রিল ২০১৭। The largest Christian community in the Middle East, Coptic Christians make up the majority of Egypt's roughly 15 million Christians.
  33. 1 2 3 4 5 "البابا تواضروس: ١٥ مليون مسيحي في مصر | المصري اليوم"। ২৯ এপ্রিল ২০২৩।
  34. ↑ "Counting Coptic Christians in Egypt – Providence"। ২৬ মে ২০২৩।
  35. ↑ About 1–2 million more Coptic Christians are spread across Africa, Europe, Australia, Canada and the United States, according to the World Council of Churches.
  36. ↑ See [৩২][৩৩][৩৪][৩৫]
  37. ↑ Coptic Orthodox Church Listings for Libya, p. 136 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত জুলাই ১৯, ২০০৮ তারিখে
  38. 1 2 3 4 "Counting Coptic Christians in Egypt – Providence"। ২৬ মে ২০২৩।
  39. ↑ "How many Christians are there in Egypt?"। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১১।
  40. ↑ "Copts in Egypt"। Minority Rights Group (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  41. ↑ "Egyptian Copts reject population estimate - Politics - Egypt"। Ahram Online। সংগ্রহের তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  42. ↑ "Who are the Coptic Christians of Egypt?"। Google Arts & Culture (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  43. ↑ "Egypt's Sisi meets world Evangelical churches delegation in Cairo - Politics - Egypt"। Ahram Online। সংগ্রহের তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  44. ↑ Doorn-Harder, Nelly van (৩ অক্টোবর ২০১৭)। Copts in Context: Negotiating Identity, Tradition, and Modernity। Univ of South Carolina Press। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬১১১৭-৭৮৫-৫।
  45. 1 2 3 4 Raheb, Mitri; Lamport, Mark A. (১৫ ডিসেম্বর ২০২০)। The Rowman & Littlefield Handbook of Christianity in the Middle East (ইংরেজি ভাষায়)। Rowman & Littlefield। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৩৮১-২৪১৮-৫।
  46. 1 2 Refugees, United Nations High Commissioner for (অক্টোবর ২০১৭)। "Refworld | World Directory of Minorities and Indigenous Peoples – Egypt: Copts of Egypt"। Refworld (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০২০।
  47. 1 2 Etheredge, Laura S. (২০১১)। Middle East, Region in Transition: Egypt। Britannica Educational Publishing। পৃ. ১৬১। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৭৭-৪১৬-০৯৩-৬।
  48. 1 2 Lyster, William (২০১৩)। The Cave Church of Paul the Hermit at the Monastery of St. Pau। Yale University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৭৭-৪১৬-০৯৩-৬। Al Hakim Bi-Amr Allah (r. 996–1021), however, who became the greatest persecutor of Copts.... within the church that also appears to coincide with a period of forced rapid conversion to Islam
  49. ↑ N. Swanson, Mark (২০১০)। The Coptic Papacy in Islamic Egypt (641–1517)। American Univ in Cairo Press। পৃ. ৫৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৭৭-৪১৬-০৯৩-৬।
  50. 1 2 Deighton, H. S. (অক্টোবর ১৯৪৬)। "The Arab Middle East and the Modern World"। International Affairs। ২২ (4): ৫১৯। ডিওআই:10.2307/3018194। জেস্টোর 3018194।
  51. ↑ "Egypt from "U.S. Department of State/Bureau of Near Eastern Affairs""। United States Department of State। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৮।
  52. ↑ "Egypt from "Foreign and Commonwealth Office""। Foreign and Commonwealth Office -UK Ministry of Foreign Affairs। ১৫ আগস্ট ২০০৮। ১২ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  53. ↑ Bailey, Betty Jane; Bailey, J. Martin (২০০৩)। Who Are the Christians in the Middle East?। Wm. B. Eerdmans Publishing। পৃ. ১৪৫। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮০২৮-১০২০-৫।
  54. 1 2 Britannica: Copts, ৩ মে ২০২৪, The Copts are descendants of pre-Islamic Egyptians. When Egyptian Muslims later ceased to call themselves by the demonym, the term became the distinctive name of the Christian minority.
  55. 1 2 Samuel Tadros, Motherland Lost, ch 3–4.
  56. 1 2 3 Guindy, pp. 25
  57. 1 2 Tadros, Mariz (২০১৩)। Copts at the Crossroads: The Challenges of Building Inclusive Democracy in Contemporary Egypt (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৭৭-৪১৬-৫৯১-৭।
  58. ↑ Images as Messengers of Coptic Identity An Example from Contemporary Egypt. RAGNHILD BJERRE FINNE STAD
  59. ↑ Gurr, Ted Robert (২০০০)। Peoples Versus States: Minorities at Risk in the New Century (ইংরেজি ভাষায়)। US Institute of Peace Press। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৯২৯২২৩-০২-২।
  60. ↑ Banjo, Omotayo O.; Williams, Kesha Morant (৩০ নভেম্বর ২০১৭)। Contemporary Christian Culture: Messages, Missions, and Dilemmas (ইংরেজি ভাষায়)। Lexington Books। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৯৮৫-৫৩৯০-২।
  61. 1 2 3 Mohamoud YA, Cuadros DF, Abu-Raddad LJ. Characterizing the Copts in Egypt: Demographic, socioeconomic and health indicators, QScience Connect 2013:22 ডিওআই:10.5339/connect.2013.22
  62. ↑ Ackroyd, P. R.; Evans, C. F. (১৯৭৫)। The Cambridge History of the Bible: Volume 1, From the Beginnings to Jerome। Cambridge University Press। পৃ. ২৭। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-০৯৯৭৩-৮। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০১৬।
  63. ↑ "The people of Egypt before the Arab conquest in the 7th century identified themselves and their language in Greek as Aigyptios (Arabic qibt, Westernized as Copt); when Egyptian Muslims later ceased to call themselves Aigyptioi, the term became the distinctive name of the Christian minority." Coptic Orthodox Church. Encyclopædia Britannica Online. 2007
  64. ↑ "Coptic Dictionary Online"। coptic-dictionary.org। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২৫।
  65. ↑ "Inuit, Inuk (Linguistic recommendation from the Translation Bureau)"। www.noslangues-ourlanguages.gc.ca। Translation Bureau, Public Services and Procurement Canada। ২৫ নভেম্বর ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬।
  66. ↑ "ROMANY definition and meaning | Collins English Dictionary"। www.collinsdictionary.com (ইংরেজি ভাষায়)। ১০ নভেম্বর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২৫।
  67. ↑ "Coptic Dictionary Online"। coptic-dictionary.org। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২৫।
  68. ↑ Lamenting Islam, imagining persecution: Copto-Arabic opposition to Islamization and Arabization in Fatimid Egypt (969–1171CE) by Maryann Magdalen Shenoda
  69. ↑ OED s.v. "Copt".
  70. ↑ qtd. in M. Hussein. el Ittigahat el Wataneyya fil Adab el Muʻaṣir [National Trends in Modern Literature]. Vol. 2. Cairo, 1954.
  71. 1 2 3 4 5 6 Bagnall, pp. 30
  72. 1 2 Bagnall, pp. 78
  73. 1 2 3 Bagnall, pp. 33
  74. ↑ Walker, Susan, op cit., p. 24
  75. ↑ Bagnall, pp. 114
  76. ↑ Dentition helps archaeologists to assess biological and ethnic population traits and relationships
  77. ↑ Irish JD (2006). "Who were the ancient Egyptians? Dental affinities among Neolithic through postdynastic peoples.". Am J Phys Anthropol 129 (4): 529–43
  78. ↑ Eusebius of Caesarea, the author of Ecclesiastical History in the fourth century, states that St. Mark came to Egypt in the first or third year of the reign of Emperor Claudius, i.e., 41 or 43 AD. "Two Thousand years of Coptic Christianity" Otto F.A. Meinardus p. 28.
  79. ↑ "The Primacy of the See of Constantinople in Theory and Practice* – Greek Orthodox Archdiocese of America – Orthodox Church"।
  80. ↑ "Papal Primacy and the Council of Nicea"।
  81. ↑ Issa, Islam (২ জানুয়ারি ২০২৪)। Alexandria: The City that Changed the World (reprint সংস্করণ)। Simon and Schuster। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬৩৯৩৬-৫৪৬-৩। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০২৫। Origen's detailed and comparative commentaries on the Bible essentially made him the founder of biblical studies. They led to his title, the father of theology, and cemented his reputation as the most influential Christian theologian until St Augustine over a century later.
  82. ↑ Naiem, Girgis (১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮)। "The Copts and their Influence on Christian Civilization"। Egypt's Identities in Conflict: The Political and Religious Landscape of Copts and Muslims। Jefferson, North Carolina: McFarland। পৃ. ২৭–২৯। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৭৬৬-৭১২০-৮। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০২৫। Copts themselves spread Christianity and their impact exceeded the borders of Egypt. [...] Cyrenaica is part of the title of the Coptic pope as an area of his jurisdiction. [...] The impact of the Coptic Christian missions was much more influential in the upper side of the Nile Valley in Nubia. [...] Coptic influence [...] reached farther south to Abyssinia, present day Ethiopia. [...] Copts also spread Christianity into the East [...]. The Egyptians went to Palestine, Syria, Cappadocia, Caesarea and some parts of Arabia. [...] Mar Augin of Clysma, Suez, founded monasticism in Mesopotamia and Persia and had a great impact on the Syrian and Assyrian Christians. In the second century, Pantaenus, the dean of the School of Alexandria, introduced the Gospel into India and Arabia Felix, or Yemen. [...] Athanasius the Apostle [died 373] [...] introduced Coptic religious life and monasticism to the Romans. [...] The influence of the Copts also reached Switzerland [...]. [...] Coptic influence also reached the British Isles far before St. Augustine of Canterbury did, in AD 597. Irish Christianity, the influential civilizing agent between northern nations in the Middle Ages, was the child of the Coptic church.
  83. ↑ Stewart, Columba (২০০০)। "Desert Fathers"। Johnston, William M (সম্পাদক)। Encyclopedia of Monasticism। খণ্ড ১: A-L। Chicago: Fitzroy Dearborn Publishers। পৃ. ৩৭৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৭৯৫৮-০৯০-২। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০২৫। Through its own literature, the accounts of outsiders who visited, and the monastic forms that it inspired, the life of the Desert Fathers provided the grounding for all later Christian monasticism.
  84. ↑ Brakke, David (২০২০)। "Holy Men and Women of the Desert"। Kaczynski, Bernice M.; Sullivan, Thomas (সম্পাদকগণ)। The Oxford Handbook of Christian Monasticism। Oxford handbooks। Oxford: Oxford University Press। পৃ. ৩৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৯৬৮৯৭৩-৬। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০২৫। The traditional narrative placed the origins of desert monasticism precisely in Egypt [...]. This story, however, is far too clear and orderly. We no longer trace all of Christian monasticism to Egypt; rather, recent work explores how forms of monasticism arose independently in particular geographic regions with their distinctive religious cultures.
  85. 1 2 A Sword over the Nile। Austin Macauley। জুন ২০২০। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬৪৩৭৮-৭৬১-৯।
  86. 1 2 3 4 Bagnall, pp. 179
  87. ↑ Bagnall, pp. 236
  88. 1 2 3 4 5 Bagnall, Roger S. (১৯৯৩)। Egypt in Late Antiquity। Princeton University Press। পৃ. ২৮৪।
  89. ↑ Butler, Alfred J. (১৯০২)। The Arab Conquest of Egypt and the Last Thirty Years of the Roman Dominion। Oxford University Press। পৃ. ২২৭–২৩০।
  90. ↑ Butler, Alfred J. (১৯০২)। The Arab Conquest of Egypt and the Last Thirty Years of the Roman Dominion। Oxford University Press। পৃ. ২৩০–২৩১।
  91. ↑ Atiya, Aziz Suryal (১৯৬৮)। A History of Eastern Christianity। Methuen & Co.। পৃ. ১০৪–১০৬।
  92. ↑ Hoyland, Robert G. (২০০৪)। "4: Taxation and Persecution"। Christians and Others in the Umayyad State। Oxford University Press।
  93. ↑ Bagnall, pp. 304
  94. ↑ Mawaiz wa al-'i'tibar bi dhikr al-khitat wa al-'athar (2 vols., Bulaq, 1854), by Al-Maqrizi
  95. ↑ Chronicles, by John of Nikiû
  96. ↑ Bagnall, pp. 299, 304
  97. ↑ Matson, G. Olaf (১৯২৫)। The American Colony Guide-book to Jerusalem and Environs। Vester। পৃ. ২০। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭। Copts. A very small community representing the large Coptic Church in Egypt.[...] Abyssinian. Also represented by a Bishop in Jerusalem. They, like the Copts, are Monophysites
  98. ↑ Shea, Nina (২০ জুন ২০১৭)। "Do Copts Have a Future in Egypt?"। Foreign Affairs (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫। {{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: |archive-date= এর জন্য |archive-url= প্রয়োজন (সাহায্য)
  99. ↑ H. Patrick Glenn, Legal Traditions of the World. Oxford University Press, 2007, p. 219.
  100. ↑ Goddard, Hugh (২০০০)। A History of Christian–Muslim Relations। Rowman & Littlefield। পৃ. ৭১। আইএসবিএন ১-৫৬৬৬৩-৩৪০-০। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০১৬।
  101. ↑ Feder, Frank (২০১৭)। "The Bashmurite Revolts in the Delta and the 'Bashmuric Dialect'"। Gabra, Gawdat; Takla, Hany N. (সম্পাদকগণ)। Christianity and Monasticism in Northern Egypt: Beni Suef, Giza, Cairo, and the Nile Delta। American University in Cairo Press। পৃ. ৩৩–৩৫।
  102. ↑ Lapidus, Ira M. (১৯৭২)। "The Conversion of Egypt to Islam"। Israel Oriental Studies। ২: ২৫৭।
  103. ↑ Robert Ousterhout, "Rebuilding the Temple: Constantine Monomachus and the Holy Sepulchre" in The Journal of the Society of Architectural Historians, Vol. 48, No. 1 (March, 1989), pp.66–78
  104. ↑ John Joseph Saunders (১১ মার্চ ২০০২)। A History of Medieval Islam। Routledge। পৃ. ১০৯–। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৪-৯৩০০৫-০।
  105. ↑ Marina Rustow (৩ অক্টোবর ২০১৪)। Heresy and the Politics of Community: The Jews of the Fatimid Caliphate। Cornell University Press। পৃ. ২১৯–। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮০১৪-৫৫২৯-২।
  106. ↑ Teule, Herman G. B. (২০১৩)। "Introduction: Constantinople and Granada, Christian-Muslim Interaction 1350-1516"। Thomas, David; Mallett, Alex (সম্পাদকগণ)। Christian-Muslim Relations. A Bibliographical History, Volume 5 (1350–1500)। Brill। পৃ. ১০। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-০৪-২৫২৭৮-৩।
  107. ↑ Werthmuller, Kurt J. (২০১০)। Coptic Identity and Ayyubid Politics in Egypt, 1218–1250। American Univ in Cairo Press। পৃ. ৭৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮০৫৪-৪০৭৩-৭।
  108. ↑ N. Swanson, Mark (২০১০)। The Coptic Papacy in Islamic Egypt (641–1517)। American Univ in Cairo Press। পৃ. ৫৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৭৭-৪১৬-০৯৩-৬। By late 1012 the persecution had moved into high gear with demolitions of churches and the forced conversion of Christian ...
  109. ↑ ha-Mizraḥit ha-Yiśreʼelit, Ḥevrah (1988). Asian and African Studies, Volume 22. Jerusalem Academic Press. Muslim historians note the destruction of dozens of churches and the forced conversion of dozens of people to Islam under al-Hakim bi-Amr Allah in Egypt ...These events also reflect the Muslim attitude toward forced conversion and toward converts.
  110. ↑ Conversion, Exemption, and Manipulation: Social Benefits and Conversion to Islam in Late Antiquity and the Middle Ages: Forcing taxes on those who refuse to convert (পিডিএফ), ʿUmar is depicted as having ordered that "the poll-tax should be taken from all men who would not become Muslims"
  111. 1 2 Bagnall, pp. 339
  112. ↑ Bagnall, pp. 338
  113. ↑ Bagnall, pp. 342
  114. 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি: ট্যাগ বৈধ নয়; "insidegmt.com" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  115. ↑ لويس عوضسيد العقل – الأهرام اليومي [Louis Awad, Master of the Mind] (আরবি ভাষায়)। Al-Ahram Daily। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০২৫।
  116. 1 2 Motherland Lost: The Egyptian And Coptic Quest For Modernity. By Samuel Tadros. pp. 64–45
  117. ↑ Haddad, George A. (১৯৭০)। "A Project for the Independence of Egypt, 1801"। Journal of the American Oriental Society। ৯০ (2): ১৬৯–১৮৩। ডিওআই:10.2307/598134। জেস্টোর 598134।
  118. ↑ Suny, Ronald Grigor (২০১৫)। "They Can Live in the Desert but Nowhere Else": A History of the Armenian Genocide। Princeton University Press। পৃ. ৪৮। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০০৮-৬৫৫৮-১।
  119. ↑ Makropoulou, Ifigenia. Pan – Arabism: What Destroyed the Ideology of Arab Nationalism? Hellenic Center for European Studies. January 15, 2007. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত অক্টোবর ২, ২০১৮ তারিখে
  120. 1 2 3 صراع الرفاق في ثورة 1919 [The struggle of the comrades in the 1919 revolution]। dotmsr.com (আরবি ভাষায়)। ১০ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০২৫।
  121. ↑ "A people's revolution: The Coptic contingent"। english.ahram.org.eg। ৭ মে ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০২৫।
  122. ↑ "Father Sergius: The preacher of Egypt's 1919 revolution"। english.ahram.org.eg। ৭ মে ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০২৫।
  123. 1 2 Nisan, Mordechai (২০০২)। Minorities in the Middle East। McFarland। পৃ. ১৪৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৮৬৪-১৩৭৫-১।
  124. ↑ Yerkes, Sarah (২০ জুন ২০১৬)। "What Egypt under Sissi is really like for Coptic Christians"। Egyptian authorities prevent surveyors from asking a participant's religion when doing research.
  125. 1 2 3 Michael Wahid Hanna, Excluded and Unequal: Copts on the Margins of the Egyptian Security State, The Century Foundation (May 9, 2019).
  126. ↑ Mohamoud, Yousra A.; Cuadros, Diego F.; Abu-Raddad, Laith J. (২০১৩)। "Characterizing the Copts in Egypt: Demographic, socioeconomic and health indicators"। QScience Connect (2013): ২২। ডিওআই:10.5339/connect.2013.22।
  127. ↑ "Copts"। www.sudanupdate.org।
  128. ↑ Mohammed Alamin, Sudan's Copts See Hope in Appointment of First Christian, Voice of America (October 9, 2019).
  129. 1 2 Jayson Casper, Khartoum Churches Damaged as Sudan Descends Closer to Civil War, Christianity Today (May 2, 2023).
  130. ↑ Copts in Sudan, Minority Rights Group (June 2018).
  131. ↑ Fikiru Mehari, The fears and vulnerabilities of Christians amid the conflict in Sudan ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৪ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে, The Tablet (April 28, 2023).
  132. 1 2 Mariz Tadros (২০১৮)। "Christians in Egypt, Libya, and Palestine Responding to the Aftermaths of the Arab Revolts"। Daniel Philpott & Timothy Samuel Shah (সম্পাদক)। Under Caesar's Sword: How Christians Respond to Persecution। Cambridge Studies in Law and Christianity। Cambridge University Press। পৃ. ১০৮–১১৩।
  133. ↑ "Vatican formally recognizes 21 Coptic Orthodox killed in Libya as martyrs, gives them feast day"। AP NEWS (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ মে ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০২৩।
  134. 1 2 Stanley A. Clark, "Coptic Orthodox Church" in Encyclopedia of Christianity in the United States (eds. George Thomas Kurian & Mark A. Lamport: Rowman & Littlefield, 2016), pp. 638–39.
  135. 1 2 Coptic Christians in Canada, CBC News (January 4, 2011).
  136. ↑ Steven Viney, Who are Egypt's Coptic Christians and why are they persecuted?, ABC News (April 10, 2017).
  137. ↑ Hannah Sinclair, Coptic Christians celebrate Christmas after 'sadness' of terror attacks, Special Broadcasting Service (January 7, 2018).
  138. ↑ Hughes, Philip J.; Fraser, Margaret; Reid, Stephen Breck (২০১২)। Australia's Religious Communities: Facts and Figures from the 2011 Australian Census and Other Sources। Christian Research Association। পৃ. ৭৮।
  139. ↑ Mary Brazell, First Coptic Catholic church in Australia blessed and consecrated in Western Sydney., Catholic Outlook (March 18, 2019).
  140. ↑ "Kuwait"। U.S. Department of State। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১৮।
  141. ↑ "King commends Coptic Church's role in promoting coexistence"। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  142. ↑ "Lebanon"। 2012 Report on International Religious Freedom। U.S. Department of State, Bureau of Democracy, Human Rights, and Labor। ২০১৩।
  143. ↑ "The ethnic origin of Christians in Israel"। parshan.co.il (হিব্রু ভাষায়)।
  144. ↑ Germany's growing Coptic Church, DW News (January 7, 2017).
  145. ↑ Andreas Schmoller, The Syriac Orthodox and Coptic Orthodox Churches in Austria: Inter-Church Relations and State Recognition, Mashriq & Mahjar: Journal of Middle East and North African Migration Studies, vol. 8, no. 1 (2020).
  146. ↑ Burnand, Frédéric (১৭ জুলাই ২০০৪)। "Orthodox Copts open church in Switzerland"। SWI swissinfo।
  147. ↑ Mohamoud YA, Cuadros DF, Abu-Raddad LJ. Characterizing the Copts in Egypt: Demographic, socioeconomic and health indicators, QScience Connect 2013:22 ডিওআই:10.5339/connect.2013.22
  148. ↑ B. Rugh, Andrea (২০১৬)। Christians in Egypt: Strategies and Survival। Springer। পৃ. ৩০। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৭-৫৬৬১৩-৩।
  149. ↑ "Religion and Education Around the World" (পিডিএফ)। Pew Research Center। ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬।
  150. 1 2 Catlos, Brian A. (অক্টোবর ২০১৪)। "Accursed, Superior Men: Ethno-Religious Minorities and Politics in the Medieval Mediterranean"। Comparative Studies in Society and History। ৫৬ (4): ৮৪৪–৮৬৯। ডিওআই:10.1017/S0010417514000425।
  151. ↑ M. Farag, Lois (২০১৩)। The Coptic Christian Heritage: History, Faith and Culture। Routledge। পৃ. ৮৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৪-৬৬৬৮৪-৩।
  152. ↑ Pennington, J. D. (এপ্রিল ১৯৮২)। "The Copts in modern Egypt"। Middle Eastern Studies। ১৮ (2): ১৫৮–১৭৯। ডিওআই:10.1080/00263208208700503। জেস্টোর 4282879।
  153. ↑ "Naguib Sawiris: 'If God wanted women to be veiled, he would have created them with a veil'"। Arabian Business। ১১ নভেম্বর ২০১৯।
  154. ↑ "Arabian Business: The Sawiris Family"। ৭ এপ্রিল ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  155. ↑ "The richest men in Africa – 2009"। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  156. ↑ "#60 Naguib Sawiris - Forbes.com"। www.forbes.com। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
  157. ↑ "#68 Nassef Sawiris - Forbes.com"। www.forbes.com। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
  158. ↑ "#96 Onsi Sawiris - Forbes.com"। www.forbes.com। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
  159. ↑ "#396 Samih Sawiris - Forbes.com"। www.forbes.com। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
  160. ↑ "The Coptic Studies' Corner"। ১৯ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  161. ↑ Allen, James P. (২০১০)। Middle Egyptian: An Introduction to the Language and Culture of Hieroglyphs (2nd সংস্করণ)। Cambridge University Press। পৃ. ১–২। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৯-৪৮৬৩৫-৪। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০১৪।
  162. ↑ "The Coptic Calendar of Martyrs"। Coptic Orthodox Church Network।
  163. ↑ Declercq, Georges (২০০০)। Anno Domini: The Origins of the Christian Era। Isd। পৃ. ৮০। আইএসবিএন ৯৭৮-২-৫০৩-৫১০৫০-৭।
  164. ↑ Calculating Coptic Orthdox Easter।
  165. ↑ "Birth of the Coptic Calendar – Special Files – Folk"।
  166. ↑ "Coptic Orthodox Calendar / Easter Calculation"। copticchurch.net। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১৮।
  167. 1 2 "Music, Coptic"। Claremont Coptic Encyclopedia। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০২৫।
  168. 1 2 "The Egyptian Copts And Their Music" (পিডিএফ)। tasbeha.org। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০২৫।
  169. ↑ "Music, Coptic"।
  170. 1 2 "Humming the oldest tune in history"। ২৩ অক্টোবর ২০১২।
  171. ↑ WorldWide Religious News. Church Building Regulations Eased ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত মার্চ ১৮, ২০০৯ তারিখে. December 13, 2005.
  172. ↑ "Egypt: Church Building Regulations Eased"। Compass Direct News। ১৩ ডিসেম্বর ২০০৫। ১৭ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  173. ↑ "Egyptian court orders clashes retrial"। BBC News। ৩০ জুলাই ২০০১।
  174. ↑ "Copts Under Fire"। The Free Lance–Star। ২৩ নভেম্বর ২০০২। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৫।
  175. ↑ Miles, Hugh (১৫ এপ্রিল ২০০৬)। "Coptic Christians attacked in churches"। London: The Telegraph। ১১ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ অক্টোবর ২০০৮।
  176. ↑ BBC. Egypt church attacks spark anger, April 15, 2006.
  177. ↑ Zaki, Moheb (১৭ মে ২০১০)। "Moheb Zaki: Egypt's Persecuted Christians"। Wall Street Journal (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫। {{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: |archive-date= এর জন্য |archive-url= প্রয়োজন (সাহায্য)
  178. ↑ "United States Commission on Int'l Religious Freedom" (পিডিএফ)। USCIRF।
  179. ↑ Chulov, Martin (১৫ আগস্ট ২০১৩)। "Egypt's Coptic Christians report fresh attacks on churches"। The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ১৬ আগস্ট ২০১৩।
  180. ↑ Khairat, Mohamed (১৬ আগস্ট ২০১৩)। "Coptic churches burn amid violence in Egypt"। Egyptian Streets। সংগ্রহের তারিখ ১৬ আগস্ট ২০১৩।
  181. ↑ Gilbert, Lela (২৫ মে ২০১৫)। "Egypt's Coptic Christians – Braced for Persecution"। Hudson Institute। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮।
  182. ↑ Abrams, Joseph (২১ এপ্রিল ২০১০)। "House Members Press White House to Confront Egypt on Forced Marriages"। Fox News। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১০।
  183. ↑ "Christian minority under pressure in Egypt"। BBC News। ১৭ ডিসেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১১।
  184. ↑ "Egypt: ex-kidnapper admits 'they get paid for every Coptic Christian girl they bring in'"। World Watch Monitor। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭।
  185. ↑ Freedom House. Egypt's Endangered Christians. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত জুন ২৪, ২০০৬ তারিখে
  186. ↑ Human Rights Watch. Egypt: Overview of human rights issues in Egypt ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০০৮-১১-১৪ তারিখে. 2005
  187. ↑ Human Rights Watch. World report 2007: Egypt ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত সেপ্টেম্বর ২৮, ২০০৮ তারিখে.
  188. ↑ "Egypt: National Unity and the Coptic issue. (Arab Strategic Report 2004–2005)"। ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৭।
  189. ↑ Audi, Nadim (১১ ফেব্রুয়ারি ২০০৮)। "Egyptian Court Allows Return to Christianity"। The New York Times। ২২ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ অক্টোবর ২০০৮।
  190. ↑ "Christians in Egypt embark on construction of churches as persecution ebbs"। Catholic News Agency। ২১ মার্চ ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মার্চ ২০২৫।
  191. ↑ "World Watch List – Persecution of Christians"। Open Doors। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মার্চ ২০২৫।
  192. ↑ (U.S.A.), Presbyterian Church (২৩ এপ্রিল ২০১০)। "Egypt — Presbyterians at work around the world — Mission and Ministry — Presbyterian Mission Agency"। www.presbyterianmission.org (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ আগস্ট ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০২৫।
  193. ↑ "Bishop Tawadros new pope of Egypt's Coptic Christians"। BBC News। ৪ নভেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৪ নভেম্বর ২০১২।
  194. ↑ Guindy, pp. 24
  195. 1 2 Ibrahim, Youssef M. (১৮ এপ্রিল ১৯৯৮)। "U.S. Bill Has Egypt's Copts Squirming"। The New York Times। ১২ জুলাই ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০০৮।
  196. ↑ Jones, Jonathan (১১ মে ২০১১)। "Who are the Coptic Christians?"। The Guardian।
  197. ↑ "The Copts of Egypt: Guardians of an Ancient Faith – Travel2Egypt"। ১৯ জুন ২০২৪। ১৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  198. ↑ Werthmuller, Kurt J. Coptic Identity and Ayyubid Politics in Egypt 1218–1250. American University in Cairo Press. 2009
  199. ↑ Bagnall, pp. 16
  200. 1 2 Bagnall, pp. 180
  201. ↑ Bagnall, pp. 320
  202. 1 2 Bagnall, pp. 321
  203. ↑ Hoyland, Robert G. (২০০৪)। "4: Taxation and Persecution"। Christians and Others in the Umayyad State। Oxford University Press।
  204. ↑ Atiya, Aziz S. (১৯৬৮)। A History of Eastern Christianity। Methuen & Co.। পৃ. ১০৪–১০৬।
  205. ↑ Bagnall, pp. 319–321
  206. ↑ Bagnall, pp. 327
  207. 1 2 Khalil, Magdy। "Reactions in the Egyptian Press To a Lecture Delivered by a Coptic Bishop In Hudson Institute"। Coptic Assembly of America। ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  208. ↑ Deighton, H. S. (১৯৪৬)। "The Arab Middle East and the Modern World"। International Affairs (Royal Institute of International Affairs 1944-)। ২২ (4): ৫১১–৫২০। ডিওআই:10.2307/3018194। জেস্টোর 3018194।
  209. ↑ "Who are the Copts of The Coptic Orthodox Church"।
  210. ↑ El Gendi, Yosra; Pinfari, Marco (মার্চ ২০২০)। "Icons of contention: The iconography of martyrdom and the construction of Coptic identity in post-revolutionary Egypt"। Media, War & Conflict। ১৩ (1): ৫০–৬৯। ডিওআই:10.1177/1750635219866137।
  211. ↑ Held, Colbert (৩ অক্টোবর ২০১৮)। Middle East Patterns, Student Economy Edition: Places, People, and Politics (ইংরেজি ভাষায়)। Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪২৯-৯৭৩০৭-৯।
  212. ↑ A Sword over the Nile। Austin Macauley। জুন ২০২০। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬৪৩৭৮-৭৬১-৯।
  213. 1 2 Schoenbrun, David; Ehret, Christopher; A Brandt, Steven; Keita, Shomarka (৯ জুন ২০২৫)। "Afrasian linguistics" in The Oxford Handbook of Archaeology and Language (ইংরেজি ভাষায়) (Mark Hudson, Martine Robbeets (eds) সংস্করণ)। Oxford University Press। পৃ. ৫৬৭–৬৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-২৬৯৪৫৫-৩।
  214. 1 2 Hassan, Hisham Y.; এবং অন্যান্য (২০০৮)। "Y-chromosome variation among Sudanese: Restricted gene flow, concordance with language, geography, and history"। American Journal of Physical Anthropology। ১৩৭ (3): ৩১৬–৩২৩। বিবকোড:2008AJPA..137..316H। ডিওআই:10.1002/ajpa.20876। পিএমআইডি 18618658। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০২৫।
  215. ↑ Trombetta, Beniamino; এবং অন্যান্য (২০১৫)। "Phylogeographic refinement and large scale genotyping of human Y chromosome haplogroup E provide new insights into the dispersal of early pastoralists in the African continent"। Genome Biology and Evolution। ৭ (7): ১৯৪০–১৯৫০। ডিওআই:10.1093/gbe/evv118। পিএমসি 4524485। পিএমআইডি 26108492।
  216. ↑ Mohamed, Hisham Yousif Hassan (২০০৯)। Genetic Patterns of Y-chromosome and Mitochondrial DNA Variation, with Implications to the Peopling of the Sudan (পিডিএফ) (PhD thesis)। University of Khartoum। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০২৫।
  217. ↑ Klales, A. R. (2014). "Computed Tomography Analysis and Reconstruction of Ancient Egyptians Originating from the Akhmim Region of Egypt: A Biocultural Perspective". MA Thesis. University of Manitoba. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৭-০৩-১১ তারিখে
  218. ↑ Begoña Dobon; এবং অন্যান্য (২৮ মে ২০১৫)। "The genetics of East African populations: a Nilo-Saharan component in the African genetic landscape"। Scientific Reports। ৫ 9996: ৮। বিবকোড:2015NatSR...5.9996D। ডিওআই:10.1038/srep09996। পিএমসি 4446898। পিএমআইডি 26017457। The North African/Middle Eastern genetic component is identified especially in Copts. The Coptic population present in Sudan is an example of a recent migration from Egypt over the past two centuries. They are close to Egyptians in the PCA, but remain a differentiated cluster, showing their own component at k = 4 (Fig. 3). The Coptic component at k = 4 peaks highest among Copts and makes up most of their distribution while it is not predominant among Egyptians. K = 2 to K = 5 (Fig. 3) shows Egyptians distribution resemble Qatar more than Copts. Copts lack the influence found in Egyptians from Qatar, an Arabic population. It may suggest that Copts have a genetic composition that could resemble the ancestral Egyptian population, without the present strong Arab influence
  219. 1 2 Hollfelder, Nina; Schlebusch, Carina M.; Günther, Torsten; Babiker, Hiba; Hassan, Hisham Y.; Jakobsson, Mattias (২৪ আগস্ট ২০১৭)। "Northeast African genomic variation shaped by the continuity of indigenous groups and Eurasian migrations"। PLOS Genetics (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ (8) e1006976। ডিওআই:10.1371/journal.pgen.1006976। পিএমসি 5587336। পিএমআইডি 28837655। এই নিবন্ধে পাঠ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা সিসি বাই ৪.০ লাইসেন্সের অধীনে উপলব্ধ।
  220. 1 2 Taha, Tarek; Elzalabany, Sagy; Fawzi, Sahar; Hisham, Ahmed; Amer, Khaled; Shaker, Olfat (আগস্ট ২০২০)। "Allele frequency comparative study between the two main Egyptian ethnic groups"। Forensic Science International। ৩১৩ 110348। ডিওআই:10.1016/j.forsciint.2020.110348। পিএমআইডি 32521421। The genetic correlation of the two ethnic groups is investigated using alleles' frequencies statistics, forensic efficiency parameters and populations' homogeneity charts. Graphical methods were used to check the harmony between the two ethnic groups. The results support that Egyptian Muslims and Egyptian Christians genetically originate from the same ancestors.
  221. ↑ "Naguib Sawiris"। Forbes (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০২৫।
  1. ↑ In 2017, the Wall Street Journal reported that "the vast majority of Egypt's estimated 9.5 million Christians, approximately 10% of the country's population, are Orthodox Copts."[১] In 2019, the Associated Press cited an estimate of 10 million Copts in Egypt.[২] In 2015, the Wall Street Journal reported: "The Egyptian government estimates about 5 million Copts, but the Coptic Orthodox Church says 15–18 million. Reliable numbers are hard to find but estimates suggest they make up somewhere between 6% and 18% of the population."[৩] In 2004, BBC News reported that Copts were 5–10% of the Egyptian population.[৪] The CIA World Factbook reported a 2015 estimate that 10% of the Egyptian population is Christian (including both Copts and non-Copts).[৫] In 2017, the Minority Rights Group reported that figures for the population of Egyptian Copts "range between 4.7 and 7.1 million, comprising between six and nine per cent of the population, though some estimates put the proportion at as much as 15 to 10 per cent."[৬]
উদ্ধৃতি ত্রুটি: "lower-alpha" নামক গ্রুপের জন্য ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ ট্যাগ পাওয়া যায়নি