বিষয়বস্তুতে চলুন

পলাতক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

পলাতক মানে হলো এমন একজন ব্যক্তি, যিনি জেল, সরকারি গ্রেপ্তার, জিজ্ঞাসাবাদ (সরকারি বা বেসরকারি), লোকজনের মারধর বা রাগান্বিত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাচ্ছে। আইনের চোখে পলাতক, যাকে ওয়ান্টেড ব্যক্তিও বলা হয়, সে এমন একজন হতে পারে যে অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে বা অভিযুক্ত হয়েছে এবং ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে লুকিয়ে আছে — হয় নিজের দেশেই, না হয় অন্য কোনো দেশে আশ্রয় নিয়েছে।[১]

আইনের চোখে পলাতক আরেকভাবে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়, যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অপরাধে অভিযোগ আনা হয়েছে বা যিনি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেও এখনও শাস্তি নির্ধারণ হয়নি বা পুরোপুরি ভোগ করেননি এবং বর্তমানে তিনি সেই রাষ্ট্র, আঞ্চলিক সরকার, বা কোনো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিয়ন্ত্রণ বা হেফাজতের বাইরে আছেন, যারা তার গ্রেপ্তারে আগ্রহী। এই সংজ্ঞাটি মূলত পলাতককে খুঁজে পাওয়া বা ধরার চেষ্টা করা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেওয়া হয়েছে। এখানে মনে রাখা জরুরি যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সবসময় জানেন না যে তিনি আইনের চোখে ‘ওয়ান্টেড’ বা পলাতক (যেমন: ভুল পরিচয় বা গোপন অভিযোগপত্রের কারণে), ফলে তিনি হয়তো ইচ্ছে করে পালাচ্ছেন না, লুকিয়ে নেই বা আত্মগোপনে যাননি।[২] যদি কোনো ব্যক্তি অপরাধের কারণে এক দেশের সীমা পেরিয়ে অন্য দেশে পালিয়ে যায় এবং সেই ব্যক্তিকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্তর্জাতিকভাবে খোঁজ করে, তাহলে তাকে বলা হয় আন্তর্জাতিক পলাতক। এর বিপরীতে, যদি তাকে শুধু নিজের দেশের ভেতরে খোঁজা হয়, তাহলে তিনি ঘরোয়া পলাতক।[৩] এদের ধরতে সাধারণত ইন্টারপোল নামক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করে থাকে। তবে সংস্থাটির কোনও ধরণের পলাতক ব্যক্তিদের সরাসরি অনুসরণ বা আটক করার আইনি অধিকার নেই।[৪] ইন্টারপোলের মতোই আরেকটি সংস্থা হলো ইউরোপোল। যারা ইউরোপজুড়ে পলাতকদের খোঁজে তল্লাশি ও সমন্বয় করে। আর যে দেশে ওই পলাতক অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হয়, সেই দেশের জাতীয় কর্তৃপক্ষ তার গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালনা করে। যুক্তরাষ্ট্রে, ইউ.এস. মার্শাল সার্ভিস হলো প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যারা ফেডারেল পর্যায়ের পলাতকদের খুঁজে বের করে। তবে, ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-ও পলাতকদের শনাক্ত ও অনুসরণ করে থাকে।

অনেক দেশে, যদি কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি বিচার চলাকালীন পালিয়ে যায়, তাহলে সে নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা বা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার হারায়। কারণ পালিয়ে যাওয়াকে আদালতের কর্তৃত্ব অমান্য করা হিসেবে ধরা হয়। ২০০৩ সালে, ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত অ্যান্ড্রু লাস্টার ছয় মাস ধরে পলাতক ছিলেন। তিনি অনুপস্থিত অবস্থায় (in absentia) দণ্ডিত হন, এবং আদালত তার আপিলের আবেদন নাকচ করে দেয় এই পলাতক থাকার কারণেই।[৫][৬]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ Lehman, Jeffrey; Phelps, Shirelle (২০০৫)। West's Encyclopedia of American Law, Vol. 5 (2 সংস্করণ)। Thomson/Gale। পৃ. ১২। আইএসবিএন ৯৭৮০৭৮৭৬৬৩৭৪২।
  2. ↑ Sadoff, David A. (২৪ ডিসেম্বর ২০১৬)। Bringing International Fugitives to Justice: Extradition and its Alternatives (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge University Press। পৃ. ৩০–৩১, ৩৩। আইএসবিএন ৯৭৮১১০৭১২৯২৮৩।
  3. ↑ Sadoff, David A. (২৪ ডিসেম্বর ২০১৬)। Bringing International Fugitives to Justice: Extradition and its Alternatives। আইএসবিএন ৯৭৮১১০৭১২৯২৮৩।
  4. ↑ "Legal materials / About INTERPOL / Internet / Home - INTERPOL"। www.interpol.int। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০১৮।
  5. ↑ "California Courts - Appellate Court Case Information"। appellatecases.courtinfo.ca.gov। ৭ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  6. ↑ "Legal Blog Network - FindLaw" (পিডিএফ)। Findlaw। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১১।